এক্সপ্লেইনার ::আমিরাত ওপেক ছাড়ায় তেলের দাম কেন কমতে পারে

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওপেকের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
সিএনএন:সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর থেকেই ওপেক নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশের সংস্থা (ওপেক) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬০ সালে। এর লক্ষ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর তেল নীতি সমন্বয় করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা। যাতে ভোক্তারা নিয়মিত, সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল পায়।
ওপেকের পাশাপাশি আরেকটি নাম নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সেটি হলো ওপেক প্লাস। এটি আরও বড় একটি জোট। এতে ওপেক সদস্যদের পাশাপাশি রাশিয়াসহ অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশও আছে।
সদস্য দেশগুলো নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এরপর তারা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয়- তেলের উৎপাদন বাড়ানো হবে, না কমানো হবে। এর মাধ্যমে তারা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে।
তেলের উৎপাদন কমালে বাজারে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বাড়ে। আবার উৎপাদন বাড়ালে সরবরাহ বেড়ে যায়, তখন দাম কমার প্রবণতা দেখা যায়। এই সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত সর্বসম্মতভাবে নিতে হয়। ফলে ওপেকের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আমিরাতের জোট ছাড়ার প্রভাব
ইউএই চায় ওপেকের উৎপাদন কোটা বাড়ানো হোক। কারণ, বর্তমানে যতটা তেল উৎপাদনের অনুমতি আছে, তার চেয়ে তাদের উৎপাদনের সক্ষমতা অনেক বেশি। ইউএই জানিয়েছে, তারা জোট থেকে বেরিয়ে আগামী ১ মে থেকে নিজেদের মতো করে উৎপাদনের মাত্রা নির্ধারণ করবে।
ওপেক সদস্য দেশগুলোর তেল ও জ্বালানিমন্ত্রীরা সাধারণত বছরে দুইবার বৈঠক করেন। সেখানে জোটের মোট উৎপাদনমাত্রা ঠিক করা হয়। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জরুরি বৈঠকও হয়।
আমিরাতের ওপেক ছাড়ার খবরে তেলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে, ফলে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, বাজারে সরবরাহ সীমিত রেখে ওপেক তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়াচ্ছে।
বাণিজ্যের ধরনে বদল
সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বেশি রাখার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লেগেছে। ওপেকের প্রভাব কমে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তাদের জন্য ভালো হতে পারে। ইউএই অঞ্চলটির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক। ফলে তারা বাজারে নতুন বড় প্রতিযোগী হিসেবে আসবে এবং ওপেকের নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তেল উৎপাদন করতে পারবে।
এ ঘটনায় আরও বোঝা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব বাণিজ্যের ধরনে স্থায়ী পরিবর্তন আনছে এবং নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি করছে। তবে বাজারে যে পরিবর্তনগুলো আসছে, সেটির প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এটি কেবল শুরু।
আমিরাতের সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদকদের জন্য অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুরোপুরি নয়। তারা যতটা তেল ব্যবহার করে, তার চেয়ে বেশি উৎপাদন করে ঠিকই, কিন্তু চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখনো আমদানি করতে হয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে যে হালকা ও নিম্ন-সালফারযুক্ত অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়, তা ভারী জ্বালানি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য তৈরিতে কম উপযোগী। ফলে কিছু তেলের জন্য এখনো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে ওয়াশিংটন।

