‘লতার বোন’ পরিচয় থেকে বেরিয়ে যেভাবে সুরের রানী হয়ে ওঠেন আশা
আশা ভোঁসলে ও লতা মঙ্গেশকর
আশা ভোঁসলে ছিলেন সেই সোনালি প্রজন্মের শেষ প্রতিনিধি, যাদের কণ্ঠে গড়ে উঠেছিল হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের স্বর্ণযুগ। তার সঙ্গে একই সময়ের কিংবদন্তিদের মধ্যে ছিলেন বড় বোন লতা মঙ্গেশকর, পাশাপাশি ছিলেন মুকেশ, মোহাম্মদ রফি ও কিশোর কুমার- যারা কয়েক দশক ধরে ভারতীয় সংগীতকে শাসন করেছেন।
৬০ ও ৭০-এর দশকে বলিউডের নাচের গানের ক্ষেত্রে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন আশা ভোঁসলে। ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘ও হাসিনা জুলফোঁওয়ালি’—এমন অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে। বিশেষ করে অভিনেত্রী হেলেনের পর্দার নাচে প্রায় নিয়মিতই কণ্ঠ দিতেন আশা। ফলে নাচের গান মানেই যেন ছিল তার কণ্ঠ।
অনেকেই একসময় মনে করতেন, আশা ভোঁসলে শুধু হালকা বা নাচের গানেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দেন তিনি নিজেই। ‘উমরো জান’ সিনেমায় গাওয়া গজল তাকে এনে দেয় ব্যাপক প্রশংসা ও জাতীয় পুরস্কার। পরে ‘ইজাজাত’ সিনেমাং ‘মেরা কিছু সামান’ গানেও তার কণ্ঠ নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রমাণ করেন, তিনি শুধু নাচের গানের শিল্পী নন, বরং সম্পূর্ণ একজন বহুমাত্রিক গায়িকা।
শুধু সংগীত নয়, ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন দৃঢ়চেতা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলেকে। সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। বিচ্ছেদের পর সন্তানদের নিয়ে ফিরে আসেন পরিবারের কাছে।
পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সংগীত পরিচালক আর ডি রাহুল দেব বর্মনকে বিয়ে করেন, যিনি তার চেয়ে বয়সে ছোট ছিলেন। এই সম্পর্ক নিয়েও শুরুতে আপত্তি থাকলেও, শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আশা।
আশা ভোঁসলের মৃত্যু মানে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়—এটি একটি যুগের সমাপ্তি। যে যুগে গান ছিল আবেগ, গল্প আর সংস্কৃতির মিশেল। তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও সময়ের সীমানা পেরিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

