সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে ‘মৃত্যু’: সুপারি চুরি করতে ভারতে গিয়েছিলেন সাদ্দাম, দাবি বিজিবির

প্রান্তডেস্ক:সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ১ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটলেও এখনো মরদেহ ফেরত পায়নি বলেও জানিয়েছে সাদ্দামের পরিবার।
সাদ্দামের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত না করলেও খাসিয়াদের সাথে সংঘর্ষে সাদ্দাম নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিখোঁজ সাদ্দামসহ তার সঙ্গীরা সুপারি চুরি করতে অবৈধপথে ভারতে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে এসব জানানো
ঘটনার ব্যাপারে বিজিবি জানায়, ১ এপ্রিল বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাধীন উৎমা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ৪-৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে ভারতের ২/৩ অভ্যন্তরে রাজন টিলা নামক খাসিয়া পল্লী এলাকায় প্রবেশ করেন। সুপারি চুরির একপর্যায়ে সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকদের (খাসিয়া) সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি চোরাকারবারীরা আহত হয় বলে জানা যায়।
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তীতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় অন্যান্যদের সহায়তায় ১ জন আহত নাগরিককে নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হলেও, সঙ্গীয়দের ভাষ্যমতে অপরজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ চোরাকারবারীর মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২) উপজেলার লামাগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, এই তথ্য বিজিবির কাছে আসা মাত্রই বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য বিএসএফ’র সাথে যোগাযোগ করা হয়, তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান/সর্বশেষ অবস্থা সংক্রান্ত কোনো তথ্য বিজিবি পায়নি। সাদ্দাম নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তার পরিবার কোম্পানিগঞ্জ থানায় অদ্য শনিবার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তিনি আরও জানান, নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে বিজিবি কর্তৃক প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও অবস্থান সনাক্তকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, বিএসএফ এর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে জানাবে বলে বিএসএফ আশ্বাস প্রদান করেছে।
স্থানীয়সূত্রের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তি ইতোপূর্বে সুপারি চুরিসহ অন্যান্য চোরাচালানির সাথে জড়িত ছিল।
তবে সাদ্দামের বড়ভাই নাজীম উদ্দীন জানান, আমার ভাইসহ চারজন ভারতে যায়। সেখানে খাসিয়ারা গুলি করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তার মরদেহ দেশে আনতে পারিনি।(সৌজন্যে;সিলেট-টু-ডে২৪.কম)

