আলোচিত বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলআর নেই

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে তিনি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরে রাতে গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা শ্মশানে তার শেষকৃত্য হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।
৫৮ বছরের হৃদয় মন্ডল স্ত্রী ববিতা হালদার (বারডেম হাসপাতালের জুনিয়র স্টাফ নার্স), অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে শ্রেষ্ঠ মণ্ডল, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে সৃষ্টি মণ্ডলকে রেখে গেছেন।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ২২ মার্চ বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এতে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তার মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।
১৯ দিন কারাগারে থেকে ১০ এপ্রিল তিনি মুক্তি পান। পরে একই বছরের ১৬ অগাস্ট তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি ২৫ বছর ধরে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও গণিত পড়ান।
নিহতের স্ত্রী ববিতা হালদার রোববার সাংবাদিকদের বলেন, কানের ব্যাথা নিয়ে হৃদয় মণ্ডল ভারতে দুই দফায় প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা করান। তার ডান কানে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৮ মার্চ তিনি দেশে ফেরেন। ২৯ মার্চ তিনি কর্মস্থলে যোগদান করে স্বাভাবিক পাঠদানও করেন।
কিন্তু সেই রাতেই বাসায় তিনি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। তাকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩১ মার্চ তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় শনিবার বিকালে তিনি মারা যান।

