বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন উৎপাদক ও সরবরাহকারী দেশ ভারত

প্রান্তডেস্ক:ভ্যাকসিন উৎপাদনে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহেও বড় ভূমিকা রাখছে দেশটি।
অনুষ্ঠানে ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে।
মন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে মহামারি মোকাবেলা ও জৈবপ্রযুক্তি খাতে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। এই সময়ে দেশটির সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
২০২৫ সালে ভারতের জৈব-অর্থনীতির আকার আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে দেশটিতে বায়োটেকনোলজি খাতের স্টার্টআপের সংখ্যাও বেড়েছে।
২০২৫ সাল শেষে ভারতে মোট ১১ হাজার ৮৫৫টি বায়োটেক স্টার্টআপ ছিল। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮০টি। ভারতের জৈব-অর্থনীতির প্রায় ৩০ শতাংশ আসে বায়োফার্মা খাত থেকে। এ খাতের মধ্যে ওষুধ, ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন জৈব চিকিৎসাপণ্য তৈরি করা হয়।
ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ‘ভারতের এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ভ্যাকসিন খাতে। আগে ভারত মূলত কম দামে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য পরিচিত ছিল। এখন ভ্যাকসিনের গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে উন্নত জৈব ওষুধ তৈরি এবং বড় পরিসরে উৎপাদনসহ সব ক্ষেত্রেই ভারতের সক্ষমতা বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারত বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। বিশ্বের মোট ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ ভারত থেকে আসে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ৬৫ শতাংশের বেশি ভারত সরবরাহ করে।’
কভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি করে বিভিন্ন দেশেও সরবরাহ করেছে বলে জানান ড. জিতেন্দ্র সিং। তার মতে, এতে ভারতের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বে নতুন ধারণা তৈরি হয়েছে।
ভারতকেন্দ্রিক সিইপিআই মিশন ‘ইন্ড-সিইপিআই’ ইতিমধ্যে বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বিআরআইসি-টিএইচএসটিআই ও বিআইআরএসি। এর আওতায় ভারতের প্রথম এমআরএনএ কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ‘জেমকোভ্যাক-১৯’ জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।
এ ছাড়া চিকুনগুনিয়ার একটি ভ্যাকসিন বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে। মাঙ্কিপক্স ও সারবেকোভাইরাসের বিরুদ্ধেও দুটি ভ্যাকসিন তৈরি হচ্ছে।
এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য যৌথ গবেষণা অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। বিআরআইসি-টিএইচএসটিআইয়ের বায়োঅ্যাসে ল্যাবরেটরি সিইপিআইয়ের ১৭টি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরির একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ল্যাবরেটরিটি বিভিন্ন দেশের গবেষকদের ভ্যাকসিন তৈরিতে সহায়তা করছে। এ পর্যন্ত এই ল্যাবরেটরি ৮টি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেটের উন্নয়নে সহায়তা করেছে এবং ১ লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রাণী গবেষণা কেন্দ্রও সিইপিআইয়ের প্রি-ক্লিনিক্যাল গবেষণা নেটওয়ার্কের অংশ হয়েছে।
এ ছাড়া সিইপিআইয়ের সহযোগিতায় উন্নত ভ্যাকসিন তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্যাক্ট কর্মসূচির মাধ্যমে ১৪টি দেশের ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার সক্ষমতা আরো বেড়েছে।
ড. জিতেন্দ্র সিং বলেন, ‘বিভিন্ন রোগ ও অণুজীবের বৈচিত্র্যের কারণে ভারত ভ্যাকসিন গবেষণা ও মহামারি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মাধ্যমে দেশটি বিশ্বকে নতুন চিকিৎসা সমাধানও দিতে পারে। ডিবিটি, বিআইআরএসি ও সিইপিআইয়ের সহযোগিতা ভ্যাকসিন গবেষণা ও ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবেলার প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই সহযোগিতার মেয়াদ ২০২৫ সালে আরো পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে।’
ড. জিতেন্দ্র সিং সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রায় এক দশক পর নয়াদিল্লিতে সিইপিআইয়ের বোর্ড ও ইনভেস্টরস কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন, মহামারি মোকাবেলা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ভারত-সিইপিআই সহযোগিতা আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

