নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতার’, বিয়ানীবাজারে উত্তেজনা

ফাইল ছবি
এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ‘কোনো নৌকাবাইচ হবে না’ বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম।
তিনি বলেন, বিষয়টি বিট কর্মকর্তার মাধ্যমে শুনেছি, ওইখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। আমরা বলে দিয়েছি জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌকাবাইচ হবে না।
জানা গেছে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনেক বছর ধরে চলা এ প্রতিযোগিতায় অতীতে কোনো বাধার মুখে পড়েননি আয়োজকরা।
কিন্তু এবার ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী এই প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে এক সভা করে প্রতিযোগিতাটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে কয়েকজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফেসবুকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে। এতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক বাসিন্দা বলেন, শত শত মানুষ প্রতিবছর এ নৌকাবাইচ উপভোগ করে। কিন্তু নিজের ঘর ঠিক নাই, পরের ঘর ঠিক করতে চায় এ রকম কিছু লোক থাকে। তারাই নৌকাবাইচ বন্ধে অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে ১১নং লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন জানান, উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করার চেষ্টা চলছে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে ফেইসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। বাধা দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি, তবে কোনো পক্ষ আমার কাছে আসেনি। নৌকাবাইচটি প্রায় সময়ই হয়।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, নৌকাবাইচ যথাসময়ে হবে। প্রস্তুতির বিষয়ে গতকাল (শুক্রবার) আমরা মিটিং করেছি, আজও (শনিবার) সন্ধ্যার দিকে আরেকটা মিটিং আছে। নৌকাবাইচ হচ্ছে।

