দুই জঙ্গিসহ জেল পালানো ৬৯০ বন্দি এখনও পলাতক: কারা মহাপরিদর্শক ১৬৬ জনের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না

সংগৃহীত ছবি
প্রান্তডেস্ক:কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো দুই জঙ্গিসহ ৬৯০ জন বন্দি এখনও পলাতক। এর মধ্যে শুধু নরসিংদী কারাগার থেকেই পালিয়েছেন ৮২৬ জন, যাদের ১৬৬ জনের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার দুপুরে পুরান ঢাকায় কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, সেই সময় পালিয়ে গিয়েছিলেন মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার। কিন্তু বন্দির সংখ্যা থাকে দ্বিগুণ। আজকেও বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার।
কারাগারে বিভিন্ন সময়ে মারা যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ করেন স্বজনরা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০২৫ সালে ১৮৭ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আর এ বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।’
কারাগারে মাদক ঢুকছে এবং কারারক্ষীরাও এতে জড়িত—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘মাদক ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলছি। মাদক সংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর। গত দুই বছরে এসব কারণে ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও ছোটখাটো অপরাধে ৩০৩ জনকে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, কোনো কারারক্ষী যদি মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, বাংলাদেশ জেল নাম বদল করে কাস্টডিয়াল অ্যান্ড কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

