তিস্তায় ডালিয়া পয়েন্টে ৯ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ২৮ সেন্টিমিটার

প্রান্তডেস্ক:টানা ভারি বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ১৪ দিনের ব্যবধানে আবারও গর্জে উঠেছে তিস্তা। নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে মাত্র ৯ ঘণ্টায় ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।
এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে নতুন করে আবারও পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে।
এর আগে সকাল ৬টাতেও একই উচ্চতায় পানি প্রবাহিত ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন এ প্রকৌশলী।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার (৫২ মিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পরে ৯ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার সকাল ৬টায় পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার; যা বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে।
সকাল ৯টায়ও একই লেভেলে তিস্তা নদী প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়া পয়েন্টে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৩২ মিলিমিটার। এছাড়া সকাল ৯টায় রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (২৯ দশমিক ৩০) ৪০ সেন্টিমিটার (২৮ দশমিক ৯০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে গত ২২ জুলাই সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর থেকে পানি কমতে শুরু করে বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার (৫১ দশমিক ৫৮) নিচে নেমে এসেছিল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারতের অংশে তিস্তা নদীর পানির বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশের অংশে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আশা করছি সন্ধ্যার মধ্যে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে আসবে।
তবে ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন ওয়েবসাইডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিস্তা নদীর উজানে ভারতের দো-মোহনী পয়েন্টে সকাল ৯টায় সেখানকার বিপৎসীমার (৮৫ দশমিক ৯৫) ৩৯ সেন্টিমিটার (৮৫ দশমিক ৫৬) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার।
পাশাপাশি বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় তিস্তার ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহ সকাল ৯টায় বিপৎসীমার (৬৫ দশমিক ৯৫) ১১ সেন্টিমিটার (৬৫ দশমিক ১১) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে হলুদ সংকেত জারী করা হয়েছে। সেখানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৭ দশমিক ২ মিলিমিটার।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
পাশাপাশি জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোও প্লাবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, “তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আমরা সর্বাক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।”
অপরদিকে ২২ জুলাই তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হলে, সেদিন পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ও গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নদী ডানদিকে সরে আসায় ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া, ভেন্ডাবাড়ি সহ কয়েকটি এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়।
পরে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে স্পার বাঁধ নির্মাণ শুরু করে। তবে আবারও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সেই স্পার বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেল্লাপাড়া গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধ রশিদুল ইসলাম বলেন, “গত ২২ জুলাই আমাদের এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। এতে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে আসে। পানি কমতে শুরু করলেও অনেকে নিজ স্থানে পুনরায় থাকতে শুরু করতে পারেনি।
“আজকে (বুধবার) হঠাৎ সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভাঙন রোধে সদ্য নির্মিত জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে তৈরি স্পার বাঁধটি নিয়ে দুশ্চিনায় রয়েছি আমরা।”
ছানাতামা গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, “সকালে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সাথে বানের পানি নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। ফলে নতুন করে শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

