২৬ দিনের মাথায় সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাল মোদি সরকার
বিভিন্ন সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী, আন্দোলন দিন দিন তীব্রতর হওয়া এবং অনশনরত ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে টানা চার ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আন্দোলনকারীদের যুক্তিসংগত দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে ওয়াংচুকের জীবন রক্ষা করাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ড. জিতেন্দ্র সিং তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অংমোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং অনশন ভাঙাতে তাকে রাজি করানোর অনুরোধ জানিয়ে সরকারের পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
পরবর্তীতে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে ওয়াংচুকের হাতে সরকারের দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতির চিঠি তুলে দেন। জানানো হয় যে, দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ বিল আগামী সপ্তাহেই সংসদে উত্থাপন করা হবে। এ ছাড়া চলমান আন্দোলনকারী দলগুলোর সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতেও রাজি হয়েছে সরকার। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা নিজে উপস্থিত থেকে সব দাবি মেনে নেওয়ার লিখিত খসড়া পাঠ করে শোনান।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত হওয়ার পর অনশন ভঙ্গ করে সোনাম ওয়াংচুক জানান, দ্রুতই তিনি লাদাখে ফিরে যেতে চান। তবে ফিরে যাওয়ার আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে এই আন্দোলন যেন কোনোভাবেই অসাধু চক্রের উসকানিতে হিংসাত্মক রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ অনুসরণ করার আকুল আবেদন জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি

