বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি ছাড়াল ৯০ ডলার

প্রতীকী ছবি
রয়টার্স::মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার দাম বেড়ে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
সোমবার সিঙ্গাপুর সময় সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ১৯ ডলারে ওঠে। এটি ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।
সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম দিনের মতো ইরানে হামলা চালায়। অন্যদিকে কুয়েত ও বাহরাইন আরও ইরানি হামলার খবর দেয়। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে জাহাজ দুটি ‘অনিরাপদ’ পথ ব্যবহার করছিল। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করছে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, প্রণালিতে তাদের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করা জাহাজগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কুমজার উপকূলের উত্তর-পশ্চিমে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। তবে এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলএসইজি’র তথ্য অনুযায়ী, রোববার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র চারটি জাহাজ। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল আটটি। শুক্রবারের পর থেকে অন্তত তিনটি তেলপণ্যবাহী ট্যাংকার ও একটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ (ভিএলসিসি) প্রণালিতে প্রবেশ করেছে তেল বোঝাই করার জন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে।

