কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন বন্ধুর চিরবিদায়

বাঁ থেকে জয় আহমেদ, সাকিব আহমদ, রায়হান আহমেদ (রাহুল)। ছবি: সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:সিলেটের গোয়াইনঘাট-জাফলং সড়কের জাফলং চা-বাগান এলাকায় রোববার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী সাকিব আহমদ, রায়হান আহমেদ (রাহুল) ও জয় আহমদের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার পৃথক জানাজা শেষে নিজ নিজ এলাকার সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহতদের মধ্যে সাকিব আহমদের জানাজা রোববার বাদ এশা জাফলং আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বেলা ১১টায় ছৈলাখেল অষ্টম খণ্ড কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে রায়হান আহমেদ (রাহুল)-এর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বাদ জোহর লাখেরপাড় গ্রামের হামিদ আলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জয় আহমদের জানাজা শেষে তিনজনকেই নিজ নিজ এলাকার সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত সাকিবের বাবা মহরম মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে খুব শান্ত-স্বভাবের ছিল। তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আল্লাহ আমার বুকটাই খালি করে দিলেন। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কত ভারী, যার সন্তান হারিয়েছে একমাত্র সেই বুঝবে।’
জয়ের বাবা রাজ্জাক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘তিন বন্ধু সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা করত। আল্লাহ তাদেরও একসঙ্গেই নিয়ে গেলেন। সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।’
তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাফলং আমির মিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, তিনজনই ছিল মেধাবী, প্রাণবন্ত এবং সবার প্রিয়। সহপাঠীরা জানায়, কয়েক ঘণ্টা আগেও তারা একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছে, আড্ডা দিয়েছে। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে বন্ধুদের হারানোর বাস্তবতা তারা এখনো মেনে নিতে পারছে না।
স্থানীয়দের মতে, গোয়াইনঘাটসহ সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে প্রায়ই কিশোরদের মোটরসাইকেল নিয়ে অবাধে চলাচল করতে দেখা যায়। তাদের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এ ঘটনাকে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ উল্লেখ করে বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীরা যাতে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে শিক্ষকদেরও আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

