
প্রান্তডেস্ক:বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলা ব্যান্ড সংগীতের পথিকৃৎ, পপ গুরু আজম খানের চলে যাওয়ার ১৫ বছর আজ। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর এবং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম প্রধান স্থপতি।
সত্তরের দশকের শুরুতে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’তে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তার সংগীতযাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি গঠন করেন ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’, যা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। উচ্চারণ এবং আজম খানের জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে- হৃদয় সাগর মরুভূমি, বাংলাদেশ, মা গো মা, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল, প্রেম চিরদিন দূরে দূরে, অভিমানী, পাপড়ি, জীবন সাথী, চুপ চুপ চুপ, হায় আল্লাহ, আসি আসি বলে তুমি, জীবনে কিছু পাব না প্রভৃতি।
এই গানগুলোর অনেকগুলোই আজ বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নতুন প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আজম খানের অবদান ছিল অসামান্য। সংগীতজীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে কিংবদন্তি ব্যান্ড সোলস-এর ২০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে চ্যানেলে আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ তাকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ দুই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করে একুশে পদক (২০১৯) এবং স্বাধীনতা পদক (২০২৫)।
দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০১১ সালের ৫ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তার গান, দর্শন, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজও বেঁচে আছে অগণিত মানুষের হৃদয়ে।





