‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সিলেটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাইনবোর্ড খুলে দিল জাসাস

প্রান্তডেস্ক:ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে সিলেটে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয় থেকে সাইনবোর্ড খুলে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।
শনিবার সকালে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকার সারদা হলের পাশের সিটি করপোরেশনের মালিকনাধীন ভবন থেকে সাংস্কৃতিক জোটের সাইনবোর্ড খুলে নেওয়া হয়। এই ভবনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ কয়েকটি নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কোন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
জোটের সাইনবোর্ডের খুলে নেওয়ার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাসাসের ১০/১২ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ের ফটকের সামনে লাগানো সাংস্কৃতিক জোটের সাইনবোর্ড খুলে মাটিতে ফেলে দেন।
এসময়র জাসাস নেতারা জানান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফ্যাসিবাদের দোসর। জোটের সিলেটের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। ৫ আগস্টের তিন দিন আগে সিলেটে ছাত্র জনতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃত জোট মিছিল করে বলেও অভিযোগ করেন জাসাস নেতারা।
তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি রাতের আঁধারে কে বা কারা ওই ভবনে আবার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাইনবোর্ড লাগিয়েছে।
সাইনবোর্ড খোলার বিষয়ে জাসাসের সিলেট জেলা সদস্য সচিব রায়হান এইচ খান ফেসবুকে লিখেন, সারদা হলে হঠাৎ নতুন করে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’-এর ব্যানার লাগানোর সাহস তারা পায় কীভাবে? যে সংগঠন সরাসরি ফ্যাসিস্ট হাসিনার আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেছে, তাদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা কখনোই মেনে নেয়া হবে না। আমি যতদিন জাসাসে আছি, এই অপচেষ্টা সফল হতে দেবো না। পুনর্বাসিত হতে হলে আগে আমাকে সরাতে হবে—মেসেজটা ক্লিয়ার করে দিলাম।’
এ ব্যাপারে রায়হান এইচ খান বলেন, আমরা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নই। আমরাও চাই সংস্কৃতির বিকাশ হোক, কিন্তু ফ্যামিসস্টের দোসরদের হাত ধরে নয়। এখন যদি তাদের ব্যানার আবার লাগে তবে এটি জুলাই আন্দোলনের সাথে ও যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছিলাম তাদের সাথে বেঈমানি করা হবে।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সিলেট জেলা সভাপতি শামসুল আমে সেলিমের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

