নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত, চীন-রাশিয়ার আপত্তি

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের দেওয়া প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতীকী ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে
রয়টার্স ও এএফপি::হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখন সেটির ওপর ভোটাভুটি হবে। প্রস্তাবটিতে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের মতো বিষয় আছে।
কূটনীতিকরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া চূড়ান্ত করে ‘ব্লু প্রিন্ট’ করা হয়েছে। যার অর্থ এটি এখন ভোটের জন্য প্রস্তুত।
প্রস্তাবটি বাহরাইন আনলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আছে। এটি পাস হলে হরমুজে জাহাজ চলাচলের বাধা বা অন্য কোনো হস্তক্ষেপকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রতিহতের অধিকার পাবে। প্রস্তাবে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের অংশের সরাসরি বিরোধীতা করেছে ভেটো ক্ষমতার অধিকারী চীন। আপত্তি জানিয়েছে, রাশিয়া ও ফ্রান্স।
পরিষদে ভোটাভুটির আগে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আক্রমণকারী এবং তাদের সমর্থকদের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ (নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া উদ্যোগ) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবের চতুর্থ খসড়াটি অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ‘সাইলেন্স প্রসিডিউর’ বা মৌন সম্মতির প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছিল। পশ্চিমা এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া সেই নীরবতা ভেঙেছে। অর্থাৎ, তারা আপত্তি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে জাতিসংঘে চীনের দূত ফু কং বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং নির্বিচার শক্তি প্রয়োগকে বৈধতা দেবে। এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।
এএফপি জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটির ষষ্ঠ সংস্করণ অর্থ্যাৎ চূড়ান্ত খসড়াটি দেখেছে। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এককভাবে অথবা ‘স্বেচ্ছাসেবী বহুজাতিক নৌ-অংশীদারত্বের’ মাধ্যমে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের রক্ষণাত্মক ব্যবস্থাগ্রহণের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে সংশোধিত খসড়ায় সরাসরি জাতিসংঘ সনদের অধ্যায়-৭ এর কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই অধ্যায়ে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র সামরিক শক্তি ব্যবহারে নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা উল্লেখ আছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-রোয়াইয়ি সম্প্রতি বলেন, অঞ্চল এবং বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্তকারী অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ মেনে নেওয়া হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পুরো বিশ্বই আজ আক্রান্ত। প্রস্তাবটি একটি সংকটময় মুহূর্তে আনা হয়েছে। এটি বেশ কয়েকবার সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে সমর্থন দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ আছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি সংকটে ভুগতে থাকা দেশগুলোকে ইঙ্গিত করে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে ‘নিজেদের তেল নিজেদেরই সংগ্রহ করতে হবে’। মার্কিন বাহিনী এই কাজে কোনো সহযোগিতা করবে না।

