কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ, আমির হামজার বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা

প্রান্তডেস্ক:ওয়াজ মাহফিলে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও কুৎসিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি একটি ইংরেজি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার দৃষ্টিতে আরেকটি খবর আনতে চাই। আজকে খবর প্রকাশিত হয়েছে, এই সংসদে উপস্থিত আমি এবং আমার আরও দুজন নারী সহকর্মীর বিরুদ্ধে এই সংসদে উপস্থিত আরেকজন সংসদ সদস্য কদাকার ও কুৎসিত ভাষায় ওয়াজ মাহফিল করেছেন। যে কুৎসিত ভাষায় তারা বক্তব্য দিয়েছেন, আমি আপনার কাছে এই ব্যাপারে বিচার চাইছি। আমি বিষয়টি সংসদে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি (স্পিকার) বিষয়টিকে দেখবেন।’
তবে রুমিন ফারহানার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য, আপনি রুলস অব প্রসিডিউর পড়লে দেখবেন যে, সংবাদপত্রের রিপোর্টিং নিয়ে কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা আমির হামজার নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমবারের মতো নির্বাচিত এমপি আমির হামজা সংসদে পাশে বসা নারী সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করছেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘রুমিন ফারহানা আপা আছে, মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে, ফারজানা শারমিন। আমার ডানে-বামে এমন ভুঁড়িওয়ালা লোক পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ডানে-বামে ভুঁড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুঁড়ি, আমার মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।’
এদিকে, মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা তাকে সংসদ প্রাঙ্গণে ‘জঙ্গি’ বলে সম্বোধন করারও বিচার চান।
বৃহস্পতিবার হানজালা সংসদে বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমি গত ৩০ মার্চ আপনার (স্পিকারের) সহধর্মীনির জানাজায় আমি এসেছিলাম। দক্ষিণ প্লাজা থেকে যখন আমি ভিতরে ঢুকব একদম কাছাকাছি পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে সম্বোধন করছিল—“ওই যে জঙ্গী এমপি যাচ্ছে।”’
হানজালা আরও বলেন, ‘একটু পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখলাম যে এই বিষয়ে খুব লেখালেখি এবং এই ভিডিওটা নিয়ে খুব আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদের একজন রানিং এমপিকে সংসদের কাছে যখন জঙ্গী বলে সম্বোধন করা হয়, এটার জন্য এই সংসদের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করছি।’
এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান হানজালা।
তার ভাষ্য, সংসদের বিরোধীদল ও প্রশাসনের সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এটা হতে পারে।
হানজালার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আপনাকে অনুরোধ জানাবো বিশেষ অধিকার প্রশ্নে আপনি এ ব্যাপারে একটি নোটিশ দেন। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।’

