লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে ‘উদ্বেগের কারণ নেই’ : হুথি
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা লোয়েডস লিস্টকে এ তথ্য জানিয়েছে লোহিত সাগরে হুথিদের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা তদারককারী সংস্থা হিউম্যানিটেরিয়ান অপারেশনস কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এইচওসিসি)।
শুক্রর প্রকাশিত লোয়েডস-এর একটি প্রতিবেদনে হুথি-প্রতিষ্ঠিত এইচওসিসি-কে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এ বিষয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই এবং বর্তমানে এই বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।’
এইচওসিসি আরও জানায়, ‘আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, প্রতিদিন তেলবাহী ট্যাংকারসহ কয়েক ডজন জাহাজ বাব আল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে, ইয়েমেন প্রজাতন্ত্র লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা রক্ষা এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথে পরিণত হয়েছে।
এদিকে, গণমাধ্যমে এমন কিছু প্রতিবেদন এসেছে যেখানে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা ইরানের সমর্থনে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব প্রণালী একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৮তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা

