বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, গ্রেগোয়ার প্রথাগত বামপন্থী দল, গ্রিন পার্টি এবং কমিউনিস্টদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে প্রায় ৫১ থেকে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল প্রার্থী রাশিদা দাতি ইতিমধ্যে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে ৪৮ বছর বয়সী গ্রেগোয়ার বিদায়ী মেয়র অ্যান হিদালগোর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন, যার অধীনে তিনি এর আগে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
প্যারিসের পাশাপাশি ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইতেও বামপন্থীদের জয়জয়কার দেখা গেছে। সোশ্যালিস্ট মেয়র বেনোই পায়ান প্রায় ৫৬.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। উগ্র-ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি বা আরএন-এর উত্থান ঠেকাতে কট্টর বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবোড’ তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাম জোটের এই বিজয় সহজতর হয়।
সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান অলিভিয়ার ফোর এই জয়কে উগ্র-ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, কেবল বামপন্থীরাই ফ্রান্সকে রাজনৈতিক পশ্চাদপদতা থেকে রক্ষা করতে পারে। অন্যদিকে তুলো শহরটিতেও মধ্য-ডানপন্থী প্রার্থী জোসে মাসি ৫৩.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আরএন প্রার্থী লর লাভালেটকে পরাজিত করেছেন।
প্যারিস ও মার্সেইতে পরাজিত হলেও নিস শহরে বড় ধরনের জয় পেয়েছে উগ্র-ডানপন্থীরা। ফ্রান্সের পঞ্চম বৃহত্তম এই শহরে আরএন-এর মিত্র এরিক সিওত্তি বিজয়ী হয়েছেন বলে বুথ ফেরত জরিপে জানা গেছে। ন্যাশনাল র্যালির প্রধান জর্ডান বারজেলা এই পরাজয়গুলোকে দলটির সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখতে নারাজ।
বরং তিনি দাবি করেছেন যে, এবারের মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে আরএন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে এবং অনেক নতুন এলাকায় নিজেদের ভিত্তি মজবুত করেছে। এর আগে প্রথম দফার ভোটে তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পার্পিনিয়ানে পুনরায় জয়লাভ করেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে।
উত্তর ফ্রান্সের ল্য আভ্র শহরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপ মেয়র হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, যা ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র অধীনে দায়িত্ব পালন করা এই মধ্য-ডানপন্থী নেতা তার বিজয়কে ফরাসি মূল্যবোধের জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি। ২০২০ সালের করোনা মহামারীর সময়ের তুলনায় এবারের উপস্থিতির হার কিছুটা বেশি হলেও ২০১৪ সালের তুলনায় এটি প্রায় চার শতাংশ কম। প্যারিসের নতুন মেয়র হিসেবে ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার শহরটিকে একটি ‘আশ্রয়স্থল’ এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ‘দুর্গ’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা