প্রান্তডেস্ক:সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী কনজারভেটিভ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্যারি প্রেজিন বোলার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন বা ‘মাগা’ (MAGA) আন্দোলন এখন পুরোপুরি মৃত।
বোলার অভিযোগ করেন, বর্তমানে মার্কিন সরকার একটি বিদেশি রাষ্ট্র অর্থাৎ ইসরায়েল দ্বারা অধিকৃত হয়ে আছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিদেশি শক্তির প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত ঘনীভূত হচ্ছে, ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের মধ্যে বিভাজন ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ক্যারি প্রেজিন বোলার তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এখন আর তার এই ‘প্রিয় বন্ধু’ প্রেসিডেন্টকে চিনতে পারছেন না। তার মতে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনঘন যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তার প্রভাবই এই যুদ্ধের মূল কারণ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন একটি বিদেশি রাষ্ট্রকে মার্কিন সরকারের ওপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বোলার জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ আমেরিকানরা এই যুদ্ধের কারণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং তারা মনে করছে যে ট্রাম্প তাদের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসের রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া এই প্রভাবশালী নারী এখন ট্রাম্পের কট্টর বিরোধী শিবিরে অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তির মধ্যে এই ফাটল কেবল বোলারের বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট তার পদত্যাগপত্র প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তিনি এই অন্যায্য যুদ্ধকে আর সমর্থন করতে পারছেন না।
কেন্টের মতে, ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না, বরং ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবির চাপেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে শুরু হওয়া যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই রিপাবলিকান মহলে এই হস্তক্ষেপবাদী নীতির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘বিদেশি যুদ্ধে না জড়ানো’র প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।
বোলার প্রায় ২০ বছর ধরে ট্রাম্পের অনুগত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, তিনি প্রতিদিন অসংখ্য ‘মাগা’ সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বড় একটি অংশই মনে করে যে কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার্থেই যুক্তরাষ্ট্র আজ ইরানের মাটিতে রক্তক্ষয় করছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব রাজনীতিবিদ ‘ড্রেন দ্য সোয়াম্প’ বা দুর্নীতিমুক্ত ওয়াশিংটনের কথা বলে বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, আমেরিকানরা আর তাদের ভোট দেবে না। বোলার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ট্রাম্প কেবল মাগা আন্দোলনকেই নয়, বরং পুরো দেশকে প্রতারিত করেছেন এবং সাধারণ মানুষ এই বিশ্বাসঘাতকতায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড