বঙ্গবন্ধুর ১০৭তম জন্মদিন আজ
প্রান্তডেস্ক:আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৭তম জন্মদিন। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ পরিবারে তাঁর জন্ম।
এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দিনটি এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ‘রাষ্ট্রীয় মর্যাদা’ ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের ওই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তাই গত বছরের মতো এবারও দিবসটি সরকারিভাবে উদযাপন হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও সেই আয়োজন হচ্ছে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৮ সালের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সব আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এসব কারণে বারবার কারাগারেও যেতে হয় তাকে।
মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান তাকেসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে কারাগারে পাঠান। ৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
১৯৭১ সালের মার্চে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ওই বছর ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন– ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এ ভাষণে সেদিন স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিকে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করলে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবন থেকে ওয়্যারলেসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর বঙ্গবন্ধুকে তাঁ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নেওয়া হয়। ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির পর বীর বাঙালি একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে স্বদেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু। সদ্য স্বাধীন দেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে নিজ বাসভবনে ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নিহত হন।
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্য ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবিস্মরণীয় ভূমিকার জন্য বঙ্গবন্ধু ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়া বিবিসির এক জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন তিনি। গত বছরের মতো এবারও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালনের সুযোগ পাচ্ছে না। তবে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং ই-মেইলে দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

