চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে নৌ উপদেষ্টা::অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে আজও অচলাবস্থা

প্রান্তডেস্ক:সেনা ও পুলিশ পাহারায় নৌ উপদেষ্টার গাড়ি বন্দর ভবন এলাকায় নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসন করতে এসে শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
বন্দর ভবনে প্রবেশের পথে উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে বন্দর ভবনের ভেতরে উপদেষ্টা হেঁটে ঢোকার সময়ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিক কর্মচারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সেনা ও পুলিশ পাহারায় বৈঠকে যোগ দেন উপদেষ্টা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বৃহস্পতিবারও পুরোপুরি বন্ধ আছে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে কোনো জাহাজ আজও নোঙর করতে পারেনি বন্দর জেটিতে।
এই অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন সরাসরি ঢাকা থেকে সকাল সোয়া ১০টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টাকে বহনকারী গাড়ি বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়৷ সামনে-পেছনে পুলিশের কড়া নিরাপত্তা থাকলেও তার গাড়ি দেখা মাত্র বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিক- কর্মচারীরা।
নৌপরিবহন উপদেষ্টার চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সিদ্ধান্ত হয় গতকাল রাতে। এ খবর পেয়ে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা জড়ো হতে থাকে বন্দর ভবনের সামনের সড়কে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরাও সক্রিয় থাকে সকাল থেকে। তারপরও উপদেষ্টার গাড়ি প্রতিরোধের মুখে পড়ে বন্দর ভবনের সামনে কাস্টম মোড়ে। প্রায় ১২ মিনিট আটকে থাকার পর পুলিশ চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে গাড়িগুলোকে বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর জানান, তাদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে আজ বৃহস্পতিবারও পুরোপুরি বন্ধ আছে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম। বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। জেটিতে আটকে আছে পণ্য খালাসের জন্য আসা জাহাজ। জেটি থেকে ডেলিভারিও হচ্ছে না কোনো পণ্য।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়। এর আগের তিন দিন কর্মবিরতি পালন করা হয় প্রতিদিন আট ঘণ্টা। এ নিয়ে আন্দোলন চলছে টানা ৬ দিন।

