সুনামগঞ্জে ক্লিনিকে ঢুকে চিকিৎসকে ছুরিকাঘাত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার

প্রান্তডেস্ক:সুনামগঞ্জ পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে ঢুকে এক চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। আহত চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শহরের আনিসা হেলথ কেয়ার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মঙ্গলবার বিকাল চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহত চিকিৎসকের নাম গোলাম রব্বানী সোহাগ (৩০)। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রায়হান উদ্দিন।
আহত চিকিৎসক জানান, তিনি বিকালে ক্লিনিকে কাজ করছিলেন। এ সময় রায়হান উদ্দিন আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন ভিতরে একজন নারীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন তিনি। এ জন্য রায়হানকে দরজার সামনে থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তখন রায়হান তার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। পরে ক্লিনিকের অন্যরা তাকে শান্ত করেন। পরে রায়হান উদ্দিন তার স্ত্রীর আলট্রাসনোগ্রাম শেষে চলে যান। কিছুক্ষণ পর রায়হান উদ্দিন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কক্ষে ঢুকেন। চেয়ারে বসে চিকিৎসককে আগের ঘটনার জন্য ‘সরি’ বলতে বলেন রায়হান ও ওই যুবক। তিনি সরি বলতে অপারগতা প্রকাশ করার এক পর্যায়ে দুইজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন, তখন তিনি মেঝেতে পড়ে যান। এসময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর তিনি চিৎকার দিলে ক্লিনিকের অন্যরা ছুটে আসেন। তখন রায়হান ও তাঁর সঙ্গে থাকা যুবক সেখান থেকে চলে যান।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মো. রায়হান উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে তিনি তার ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়ে বলেছেন, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের সামনে তারা দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ওই ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে তার ওপর আক্রমণ করেন। পরে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকাল ৪টা ৩ মিনিটের দিকে ছাত্রদল নেতা মুবিনকে সঙ্গে নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দিকে আগাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেক দল নেতা রায়হান উদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর অপেক্ষারত রোগী ও তাদের স্বজনদের দৌড়ে বের হতে দেখা যায়।
ক্লিনিকের অন্যতম মালিক শামসুল আলম জুয়েল বলেন, আমি চিৎকার শোনে আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দিকে গিয়ে দেখি রায়হান ও তার সঙ্গের এক যুবক ডাক্তারকে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করছেন। অনেক কষ্টে উনাকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। তারা ডাক্তারকে ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষের দুটি কম্পিউটারও ভাঙচুর করেছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুনাজ্জির হোসেন বলেন, যেটুকু শুনেছি, সেটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ঘটনাটি তিনি ব্যক্তিগত কারণে করেছেন। আমরা তাৎক্ষণিক বিষয়টি কেন্দ্রকে জানিয়েছি। জেলা বিএনপির অভিভাবকদের জানিয়েছি। এই ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রকে অবহিত করা হবে।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে আহতের সঙ্গেও কথা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

