সত্যের মুখোমুখি আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আসিফ নজরুলের নাম উঠেছিল কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘৫ই আগস্ট রাত ১টার দিকে বঙ্গভবন থেকে এসে কার্জন হলের ওখানে নাহিদ, আফিস ও মাহফুজদের সঙ্গে দেখা হয়। আমিতো ভেবেছিলাম স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) প্রধান উপদেষ্টা হবেন না। তখন আমি সালেহউদ্দিন, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যারের কথা বলেছিলাম। ৬ই আগস্ট সকাল বেলা অন্য একটা পক্ষ থেকে আলোচনা করা হয়। তারা বলেছিল-ইউনূস স্যার না হলে কে হতে পারেন। সেই তালিকাতেও আমার নাম ছিল না।’
‘আপনি কতটা ভারতপন্থি, কতটা ভারত বিদ্বেষী’ আসিফ নজরুলের কাছে এমন প্রশ্ন রাখেন উপস্থাপক। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাকে পাকিস্তানপ্রেমী বলে আমার রুমে আগুন দেয়া হয়েছিল। আমার রুমে তালা দেয়া হয়েছে। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। রাতারাতি আমি হয়ে গেলাম ভারতের ‘দালাল’। জামিল সাহেব যখন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তখন ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চলল- আমি ভারতের দালাল। তাজুল যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেলো তখন ২৪ ঘণ্টা প্রচারণা চলল-আমি পাকিস্তানের দালাল। আমি ক্লিয়ারলি বলি আমি বাংলাদেশের ‘দালাল’। আগে আমাকে কেউ অ্যাটাক করার আগে ৫০ বার ভাবতো। এখন দেখেন আপনার প্রোগ্রামে আমি আট মাস পর এসেছি। কিন্তু আগে প্রতি মাসে একবার করে আসতাম। এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কেউ যদি আমাকে বলে, ভাই আপনি নাকি আমেরিকা চলে গেছেন? আমি কী বলব, আমি ফোনটা কেটে দেবো। কিন্তু জবাবদিহিতা অন্য জিনিস। গালাগালি, মিথ্যাচারের উত্তর দেয়া যায় না।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আক্রমণকারী ছিল সরকার ও সরকার দলের ক্যাডাররা। এখন মত প্রকাশের শত্রু হচ্ছে জনগণ। এখন জনগণের একটা অংশ আরেকটা অংশকে কথা বলতে দেয় না। আমাদের সরকারের সমালোচনাও হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ৪ মাসে ১৭ টা ভিডিও করা হয়েছে। ধর্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে যতো বাজে কথা শুনেছি তার থেকে বেশি কথা গত সাত মাসে শুনেছি। কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে নানা অস্থিরতা থাকে, অনিশ্চয়তা থাকে। অতিরিক্ত স্বাধীনতা, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এসব হচ্ছে। জনগণের একটা অংশ যখন আরেকটা অংশকে অ্যাটাক করছে। মব শুরু হয়েছে। এটাকে দমন করার জন্য সরকারের ব্যর্থতা থাকতে পারে, কিন্তু প্রণোদনা নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একেকটা কার্ভ আছে। কখনো মনে হয় কমেছে, কখনো মনে হয় বেড়েছে। যদি পরিসংখ্যান দেখেন অপরাধ প্রবণতা কিন্তু বাড়ে নাই। অনেকক্ষেত্রে কমেছে। কিন্তু মানুষের স্বাভাবিক যন্ত্রণা এতো রক্ত দেয়ার পর কেনো এটা হবে? এখন এই রোগটা বেশি অনুভূত হয়। বাংলাদেশে সবথেকে বেশি রাজনীতিকরণ করা হয়েছে পুলিশে। ঘোষণা দিয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ, ছাত্রলীগের পুলিশ নেয়া হয়েছে না! এই লোকগুলো কি রাতারা%

