দন্তচিকিৎসক, পানির লাইনের মিস্ত্রি যেভাবে উড়োজাহাজ ‘বিধ্বস্ত’ হওয়া ঠেকান

ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের কয়েকজন যাত্রী। শোটা মুসায়েভ (বাঁ থেকে), আসাফ রাজুয়ান, ইয়ানিভ হায়ুন ও জভিকা মানেস। কোলাজ: টাইমস অব ইসরায়েল
দ্য গার্ডিয়ান::সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন পাইলট স্মিত মাচ্ছার। সে অবস্থায় তিনি দরজা খোলার বোতামে চাপ দেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন।
স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলাকারী ছিলেন তাঁর সহকারী পাইলট। জানা যাচ্ছে তিনি ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, সহকারী পাইলট যাত্রীসহ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছিলেন। সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করা ফ্লাইটটিতে যাত্রী ছিলেন ১৭৪ জন।
নেতানিয়াহুকে হায়ুন বলেন, অন্যরা যখন হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন, তখন তিনি লাফ দিয়ে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন। টেলিভিশন শোতে দেখা অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কন্ট্রোল প্যানেলের হ্যান্ডেলগুলো পেছনের দিকে টানতে শুরু করেন। এরপর অন্য ক্রুরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
মুসায়েভ আরও বলেন, ‘আমরা যদি আর কয়েক মুহূর্ত দেরি করতাম, তবে মাচ্ছারকে হয়তো বাঁচাতে পারতাম না।’ হেডফোনের তার ও প্লাস্টিকের জিপটাই দিয়ে হামলাকারীকে বেঁধে ফেলা হয়েছিল বলেও জানান মুসায়েভ।
এ ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামছিল। পরে কয়েকজন ক্রু সেটির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন। আলমাগ ইতালি নামের এক যাত্রী জানান, এ কাজে সহায়তা করেছিলেন ছুটিতে থাকা এক ব্রিটিশ পাইলট। তিনি ফ্লাইটের যাত্রী ছিলেন। এছাড়া, আরও দুজন ‘রিলিফ পাইলট’ ছিলেন। পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।
বিবিসির পোস্ট করা একটি ভিডিওতে আলমাগ ইতালি বলেন, রিলিফ পাইলটরা ককপিটে প্রবেশ করে বিমানটি ওপরের দিকে তোলেন। ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পর সৌদি আরবে অবতরণ করেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে স্মিত মাচ্ছারের অস্ত্রোপচার হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান দুবাইয়ে বসবাস করেন। অপরদিকে সহকারী পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ।
উড়োজাহাজটি এতো দ্রুত নিচে নেমেছিল যে, এর পেছনের দিকের রাডারের বেশিরভাগ অংশ ছিঁড়ে গিয়েছিল। এরপরও সেটি বিধ্বস্ত না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের সাবেক পাইলট ও এভিয়েশন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যারোয়ো বলেন, ‘উড়োজাহাজটি খুব দ্রুত নিচের দিকে নামছিল। এটি যে টুকরো টুকরো হয়ে যায়নি, সেটাই অবাক করা বিষয়।’
গুজেটি নামে আরেক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ বলেন, হাতে যথেষ্ট উচ্চতা ছিল বলেই হয়তো যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। উড়োজাহাজটি যদি ১০ হাজার ফুটের নিচে নেমে যেত, তাহলে হয়তো ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না।

