ভারতে ভোটের আগেই কি তরুণদের নিয়ে অস্বস্তিতে শাসক শিবির?
ছবি : সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:ভোট এখনও অনেক দূরে। কিন্তু তার আগেই কি তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? মহারাষ্ট্রের পুনে-তে ২২ আগস্ট রাহুল গান্ধী-র ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনের কড়াকড়ি সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রী ও তরুণীদের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে যে জমায়েতের আয়োজন তার আগেই পুনে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
প্রশাসনের যুক্তি–আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ, এক জায়গায় ৫ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিয়ে কড়াকড়ি–এসবকে প্রশাসনিক সতর্কতা হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাহুল গান্ধীর কর্মসূচির আগে এই তৎপরতার রাজনৈতিক তাৎপর্য কতটা?
কারণ বিষয়টি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সভা নয়। এখানে যুক্ত হচ্ছে দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং বিশেষ করে মহিলা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। গত কয়েক বছরে শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষা, মূল্যবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ বিভিন্ন সময়ে রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ফলে ছাত্রসমাজের সঙ্গে কোনও বিরোধী নেতার সরাসরি যোগাযোগ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতেই পারে।
রাহুল গান্ধীও সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উপর জোর দিচ্ছেন। ছাত্রদের সমস্যা, চাকরির সংকট, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার–এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে জেন-জির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা কংগ্রেসের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
কোটা থেকে প্রয়াগরাজ, দেরাদুন থেকে পুনে–ছাত্রসমাজের বিভিন্ন প্রশ্ন ও প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তৈরি করেছে। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ যদি প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে নিজেদের প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অবস্থান নিতে শুরু করে, তাহলে তার প্রভাব আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে পড়তেই পারে।
তাই মহারাষ্ট্রের পুনে-র প্রশ্নটি শুধু আজকের (২২ আগস্টের) সেখানে একটি বড় শোডাউন কর্মসূচি হবে কি হবে না, সেটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হল–ছাত্র-ছাত্রী ও জেন-জির সঙ্গে রাহুল গান্ধী-র যোগাযোগ কি বিরোধী রাজনীতিকে নতুন জায়গা দিতে পারে? আর প্রশাসনের এই কড়াকড়ি কি নিছক নিরাপত্তাজনিত পদক্ষেপ, নাকি সম্ভাব্য বড় জমায়েতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও শাসক মহলে হিসাব-নিকাশ চলছে?
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট–কোনও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভয় বা সরকারের অস্বস্তির প্রমাণ হিসেবে দেখার আগে তার সরকারি কারণ ও বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা জরুরি। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞাই যখন একটি ছাত্রকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে আসে, তখন তার রাজনৈতিক অভিঘাত নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
আর এখানেই পুনে হয়ে উঠছে বৃহত্তর ভারতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র। রাহুল গান্ধী কি সত্যিই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারছেন? নাকি এটি এখনও সীমিত রাজনৈতিক প্রচার?
উত্তর হয়তো শনিবারের (২২ আগস্ট) জমায়েতেই পুরোপুরি মিলবে কিনা জানা নেই। তবে ছাত্রসমাজের সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির এই নতুন যোগাযোগ আগামী নির্বাচনের আগে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।


