দিল্লিতে স্থগিত হলেও ঝাড়খন্ডে চলছে জেন-জি আন্দোলন

ভারতের রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে আমরণ অনশনরত এক ছাত্রনেতা। ছবি: সংগৃহীত
প্রান্তডেস্ক:পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত মাস থেকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার জেন-জি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। দিল্লির ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরপরই শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
তার উপর সম্প্রতি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করায় এই প্রতিবাদ দেশজুড়ে আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিলের সূচি:
এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন একাধিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে:
৬ আগস্ট: ঝাড়খণ্ড ক্রান্তি মোর্চা’র মিছিল।
৭ আগস্ট: সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ।
১০ আগস্ট: কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়া সাধারণ ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিল।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি এখন রাঁচির আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সিজেপি ঝাড়খণ্ডের সকল শিক্ষার্থীর পাশে আছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।’
বর্তমানে এই আন্দোলন সারা দেশ থেকেই ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সাধারণ মানুষ অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে আন্দোলনস্থলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ঝাড়খণ্ড শাখা অলবার্ট এক্কা চকে রাজ্য স্তরের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের বক্তব্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য রাজ্য সরকার অপেক্ষা করছে।
প্রথমবারের মতো আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেবে। আমি আমার সিদ্ধান্ত আগেভাগে জাহির করতে পারি না, তবে সবাই জানে আমি যে দায়িত্বই নিই না কেন, তা শেষ করি। এসআইটি দিনরাত কাজ করছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
জেন-জি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে তাদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

