ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১
ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৮১১
প্রকাশিত হয়েছে : ৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২২ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
প্রান্তডেস্ক:ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ১৬ হাজার ৭৪০ জন।
দুর্যোগের কয়েক সপ্তাহ পরও হাজারো মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে এসব তথ্য জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সরকারি হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৭৯৪টি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
এ ছাড়া ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ৯৬ লাখ লিটারের বেশি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন ২৭ হাজার ৩৯৮ জন।সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে ৩০ হাজার ৭৬ জন সরকারি কর্মী কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯২ জন স্বেচ্ছাসেবক। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৪ হাজার ৩৮৮ জন আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীও এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য দেশজুড়ে ৮৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে। এসব শিবিরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে প্রথম ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০২টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। বহু ভবন ধসে পড়ে, হাজারো মানুষ হতাহত হন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই দুর্যোগের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় পরিসরে উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসনের কাজ চলছে।