প্রান্তডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে যোগ দিতে আগতদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হবে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, আলোচনায় অংশ নিতে আসা প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোকে ভিসা ছাড়াই বোর্ডিংয়ের অনুমতি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্টদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা ইস্যু করা হবে।
পাকিস্তান সরকারের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রতিনিধিদের যাতায়াত সহজ করা এবং একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কূটনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এই প্রেক্ষাপটে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
সম্ভাব্যভাবে ১১ এপ্রিল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত এজেন্ডা এখনো নির্ধারণাধীন। অংশগ্রহণকারীদের তালিকাও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান সৈয়দ আসিম মুনির এবং ইসহাক দারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পাশাপাশি থাকতে পারেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিতে পারেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, সঙ্গে থাকতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি।
এদিকে, লেবাননে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি এই আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতির চুক্তির পরিপন্থী এবং এতে শান্তি আলোচনা ব্যাহত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে, যার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।