ক্রু কোথায় লুকিয়ে ছিলেন, কীভাবে উদ্ধার- জানাল মার্কিন গণমাধ্যম

অপারেশন এপিক ফিউরিকে সহায়তার জন্য উড্ডয়ন করে মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল। ছবি: ফক্স নিউজের সৌজন্যে
প্রান্তডেস্ক:ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন ফাইটার জেটের নিখোঁজ ক্রুকে জীবিত উদ্ধারের দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার তিনি জানিয়েছেন, একটি বিশেষ তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে ওই ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ‘কর্নেল’ বলে পরিচয় দেওয়া ওই ক্রু বিমান বিধ্বস্তের পর কোথায় লুকিয়ে ছিলেন, কীভাবে যোগাযোগ হয়েছিল তা নিয়ে রোববার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ। ট্রাম্পপন্থী এই গণমাধ্যমটির সাংবাদিক জেনিফার গ্রিফিন জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ক্রু মূলত ‘ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার’।
নিজের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং মার্কিন বাহিনীকে উদ্ধারে সহায়তা করতে ওই সেনা সদস্য একটি ‘এনক্রিপ্টেড’ যোগাযোগ ব্যবস্থা অথবা একটি বিশেষ বিকন সংকেত সক্রিয় করেছিলেন।
হোয়াইট হাউসে বসে এপিক ফিউরি অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ড্যান কেইন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ফাইল ছবি: হোয়াইট হাউস
প্রায় ৩৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান চলার সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় ইরানের বিমান হামলা প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে। মার্কিন উদ্ধারকারী দলকে সুরক্ষা দিতে ইসরায়েল ইরানি হামলাগুলো থামিয়ে দেয়।
সিআইয়ের ধোঁকা
ফক্স নিউজ লিখেছে, পেন্টাগন নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের মূল অভিযান শুরু করার আগে সিআইএ ইরানের ভেতরে বড় ধরনের ‘বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা’ চালায়। প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জেনিফার গ্রিফিন জানিয়েছেন, ওই সেনাসদস্য উদ্ধার হওয়ার আগেই সিআইএ ইরানের ভেতরে খবর ছড়িয়ে দেয় যে, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে নিখোঁজ কর্নেলকে খুঁজে পেয়েছে এবং তাঁকে স্থলপথে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।
গ্রিফিন জানান, যখন ইরানি বাহিনী সিআইএ’র এই খবরে বিভ্রান্ত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, ঠিক তখনই সিআইএ তাদের ‘অসাধারণ ও বিশেষ সক্ষমতা’ ব্যবহার করে মার্কিন সেনাসদস্যের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করে।
এই অভিযানকে ‘খড়ের গাদায় সুঁচ খোঁজা’র সঙ্গে তুলনা করে গ্রিফিন জানিয়েছেন, ওই আমেরিকান অফিসার পাহাড়ের একটি গভীর খাঁজে লুকিয়ে ছিলেন। সেখানে সিআইএ’র বিশেষ প্রযুক্তি ছাড়া তাঁকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ছিল। সেনাসদস্যের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরপরই সিআইএ তা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসকে জানায়। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন। পরে সিআইএ’র দেওয়া রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করে।
কাদায় আটকে যায় বিমান
অভিযানের সময় কারিগরি জটিলতার কারণে অন্তত একটি বিমানকে ঘটনাস্থলে ফেলে এসেছে মার্কিন বাহিনী। ফক্স নিউজ লিখেছে- প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান সম্ভবত কাদা মাটিতে আটকে গিয়েছিল। বিমানটি যাতে শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে, সেজন্য সেটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অভিযানে নিয়োজিত সেনাসদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত আরও বিমান সেখানে পাঠানো হয়েছিল।
ইরানের মধ্যাঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ছবি: সেপাহ নিউজ/ এএফপি
জেনিফার গ্রিফিন বলেন, ‘এটি পুরোপুরি সিনেমার গল্পের মতো। যখন এই অভিযানের পুরো কাহিনী সামনে আসবে, আমি মনে করি আমরা সবাই স্তম্ভিত হয়ে যাব।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে আফগানিস্তানে উদ্ধার অভিযানগুলো সবসময় সফল হয়নি। কিন্তু এই অভিযানের জটিলতা, দুজন বৈমানিককে সফলভাবে উদ্ধার এবং এতে নিয়োজিত সেনাসদস্য ও বিমানের বিশাল বহর- সব মিলিয়ে এমন কিছু তিনি আগে কখনো দেখেননি।
ইরানের দাবি
রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নিখোঁজ এক পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন বিমানকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আইআরজিসিকে উদ্ধৃত করে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন ফাইটার জেটের পাইলটকে খোঁজার কাজে নিয়োজিত শত্রুপক্ষের একটি বিমানকে ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে বীর যোদ্ধারা ধ্বংস করে দিয়েছেন।

