এই যুদ্ধ শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, এতে অন্তত আরও বহু দেশ প্রভাবিত হয়েছে, যেমন- সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, আজারবাইজান, অধিকৃত পশ্চিম তীর, সাইপ্রাস, সিরিয়া, কাতার এবং লেবানন।
অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই আঞ্চলিক সংঘাত কি পুরোদমে বিশ্ব যুদ্ধে রূপ নিতে পারে?
একটি যুদ্ধ কখন বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হয়?
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ইতিহাসের এমেরিটাস অধ্যাপক মার্গারেট ম্যাকমিলান, বিবিসির গ্লোবাল স্টোরি পডকাস্টে বলেন, মানুষ সাধারণত মনে করে যুদ্ধ খুব পরিকল্পনা করে শুরু করা হয়, আর যারা যুদ্ধে যায় তারা জানে তারা কী করতে যাচ্ছে।
কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা করেন, আসলে, অতীতের যুদ্ধগুলো দেখলে বোঝা যায়… প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্রেও… শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে অনেকটাই ছিল দুর্ঘটনা আর প্রতিপক্ষের সাথে ভুল বোঝাবুঝি। একে অনেকটা স্কুলের মাঠের ঝগড়ার মতো ভাবা যেতে পারে। অর্থাৎ, যেখানে ছোট ছোট ভুল বোঝাবুঝি বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ম্যাকমিলান বলেন, ১৯১৪ সালে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সম্রাট ফ্রানৎস যোসেফের ভাতিজা আর্চডিউক ফ্রানৎস ফার্দিনান্দকে হত্যার ঘটনাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে।
এরপর খুব দ্রুত জোটবদ্ধ দেশগুলো একে অপরের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি একসাথে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, জার্মানি অস্ট্রিয়াকে সমর্থন দেয়, আর রাশিয়া সার্বিয়ার পক্ষে সেনা মোতায়েন করে, ফ্রান্স রাশিয়াকে সমর্থন করে, আর ব্রিটেন সম্মান ও কৌশলগত কারণে যুদ্ধে যোগ দেয়।
এরপর যা ঘটে, তা এক ভয়াবহ বৈশ্বিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জো মাইওলো বিশ্বযুদ্ধকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বিশ্বযুদ্ধ হলো এমন একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ, যেখানে সব বড় শক্তিগুলো জড়িয়ে পড়ে।
তিনি বিবিসিকে বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মূলত ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো জড়িত ছিল। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং চীন।
অনেকেই মনে করেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা মূলত আঞ্চলিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সংঘাত কি আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?
ফেব্রুয়ারিতে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তার মতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছেন। আর একে থামানোর উপায় হলো রাশিয়ার ওপর কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, পুতিন ইতোমধ্যেই এটি শুরু করেছেন। প্রশ্ন হলো, তিনি কতটা এলাকা দখল করতে পারবেন এবং তাকে কীভাবে থামানো যাবে… রাশিয়া বিশ্বে একটি ভিন্ন জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায় এবং মানুষ যে জীবন বেছে নিয়েছে তা পরিবর্তন করতে চায়।
তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি এখন কতটা?
মার্গারেট ম্যাকমিলান বলেন, আমার মনে হয়, যে দেশটি এই সংঘাতকে আরও বড় করে তুলতে পারে, সেটি সম্ভবত ইরান, অথবা ইরানের মিত্ররা যেমন ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইরান যদি জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটে হামলা চালায় বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বৈশ্বিকভাবে এর প্রভাব পড়বে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং বড় শক্তিগুলো এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দেশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও তারা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে প্রভাবিত হয়েছে।
আরেকটি ঝুঁকির কথাও তিনি বলেন যে, এক অঞ্চলের সংঘাত অন্য জায়গায় নতুন করে সংঘাতের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
উদাহরণ হিসেবে, চীন ভাবতে পারে যে পশ্চিমা