প্রান্তডেস্ক:ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের খবরের মধ্যে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’-এর প্রথম পাতায় ‘নরকে স্বাগতম’ (Welcome To Hell) শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে পা রাখে, তবে তারা কেবল ‘কফিনে’ বন্দি হয়েই ফিরবে।
গত শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এই খবরটি আসার পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন চরম বার্তা দেওয়া হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতিরই অংশ। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সাথে শান্তি আলোচনা চলছে, কিন্তু সেনাসংখ্যা বাড়ানোর এই উদ্যোগ অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেখানে ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হচ্ছে। এসব সেনাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’-এর কাছাকাছি অবস্থানে রাখা হতে পারে।
এদিকে তেহরানের এক কর্মকর্তা গত বুধবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের সক্রিয় করবে। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল পুনরায় বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধের একটি নতুন ফ্রন্ট বা রণাঙ্গন খুলে দেওয়া হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো বলছেন যে, স্থল যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আলোচনা ‘খুবই ইতিবাচক’ভাবে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।