২৫ মার্চ গনহত্যা দিবসে শ্রদ্ধা জানাই, ২৫ মার্চ সহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আত্মত্যাগকারি সকল বীর শহীদদের।
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত
প্রান্তডেস্ক:২৫শে মার্চ কালো রাত্রি। এমন ভয়াবহ রাত বাঙালি জাতির জীবনে আর কখনো আসেনি।পাকিস্তানি বাহিনী অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ ঘুমন্ত নিরস্ত্র নরনারীর ওপরে এক ভয়ঙ্কর পাশবিক উল্লাসে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন পাশবিকতার দৃষ্টান্ত বিরল। পাকবাহিনী চেঙ্গিস, হালাকু,হিটলারের অত্যাচর পাশবিকতাকে হার মানিয়েছিলো,ম্লান করে দিয়েছিলো সকল বর্বরতাকে। তারা এই কাজ করেছিল পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে, যার শেষ হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে।৭১ সালের ২৫ মার্চ রাজধানী ঢাকায় প্রথমে তারা হামলা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারীদের আবাসস্থলে, পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর বাহিনীর সদর দফতরে। এরপর তারা ধ্বংস করেছে ঢাকার বস্তি, বাজার এবং হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সমুহ।
বাজার, বস্তিতে দিয়েছে আগুন ধরিয়ে। আগুনের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ যখন ঘর থেকে দলে দলে বেরিয়ে এসেছে তখন ওদের উপর মেশিনগানের গুলি বর্ষিত হয়েছে একটানা, যতক্ষণ না প্রতিটি মানুষ নিহত হয়।
২৫ মার্চের রাতের অন্ধকারে শুধু মাত্র ঢাকায় ৫০–৬০ হাজার নিরীহ আদম সন্তানকে অকাতরে জীবন দিতে হয়েছিল।
সেই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের স্মরণে ২৫ মার্চকে রাষ্ট্রীয় ভাবে গনহত্যার স্বীকৃতি দিতে সময় কেঁটে যায় ৪৬ বছর। অবশেষে ২০১৭ সালে ১১ মার্চ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার জাতীয় সংসদে বিল উত্তাপন করেন ২৫ মার্চকে ‘গনহত্যা দিবস’ হিসাবে পালনের।
এরপর সংসদ কক্ষে রাখা বড় পর্দায় পাক হানাদার বাহিনীর গনহত্যার প্রামান্য চিত্র দেখানো হয়।
সেই আলোচনা অংশগ্রহণ করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন ” বিশ্বের যত গণহত্যা হয়েছে তার মাঝে ২৫ মার্চের হত্যাকাণ্ড ছিলো সবচেয়ে মর্মান্তিক”।
২৫ মার্চের গনহত্যা দিবসের প্রাক্কালে শ্রদ্ধা জানাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের।
আর ধিক্কার জানাই সেইসব জানোয়ারদের যারা আমাদের বুকে সেটে দিয়েছিল কৃষ্ণপক্ষ।

