ভয়েস অফ আমেরিকা পুনরায় চালুর নির্দেশ আদালতের
প্রান্তডেস্ক:মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বন্ধ করে দেয়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অফ আমেরিকা’ (ভিওএ) পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। সংবাদমাধ্যমটি যেভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তাকে অবৈধ বলে রায় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি হারানো সাংবাদিকদের কাজে ফিরিয়ে আনার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রয়েস ল্যাম্বার্থ এই রায় দেন। এতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে ভিওএকে পুনরায় সম্প্রচারে ফেরানোর নির্দেশ দেন। সংবাদমাধ্যমটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণাকে মোকাবিলা করতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের উদ্যোগ নেন। তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভিওএকে ‘বামপন্থী পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে ট্রাম্প রেডিও ফ্রি ইউরোপ এবং রেডিও ফ্রি এশিয়া-এর মতো অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যমকেও বন্ধের নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারি লেককে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মিডিয়ার (ইউএসএজিএম) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা ভিওএসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর তদারকি করে। দায়িত্ব নেয়ার পর ক্যারি লেক সংস্থাটির ৮৫ শতাংশেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেন। শুধু ভিওএতেই এক হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারান। অনেককে গত বছর থেকে বেতনসহ প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহে বিচারক ল্যামবার্থ রায় দেন, ক্যারি লেক যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অনুমোদন না পাওয়ায় ইউএসএজিএম কর্মীদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা তার ছিল না।
মঙ্গলবার দেয়া রায়ে বিচারক বলেন, সাংবাদিকদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত ছিল খেয়ালখুশিমতো ও অযৌক্তিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ভিওএ কোন ভাষা ও অঞ্চলে সম্প্রচার চালাবে এ সংক্রান্ত আইনগত বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেয়নি।
এই মামলাটি করেছিলেন ভিওএ’র তিনজন সাংবাদিক। তাদের একজন প্যাস্টি উইডাকুসওয়ার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা আশা করি, আমেরিকান জনগণ আমাদের সাংবাদিকতার মিশনকে সমর্থন করে যাবে। প্রচার নয়, সংবাদ পরিবেশনই আমাদের লক্ষ্য।
বন্ধ হওয়ার আগে ভিওএ প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার চালাত। ট্রাম্পের ভিওএ-বিরোধী অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার বৃহত্তর সমালোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেশটির দর্শকরা ক্রমেই রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হিসেবে দেখছেন।

