মনোনয়ন পেয়েও পুরস্কার স্থগিত কবি মোহন রায়হানের
প্রান্তডেস্ক:কবিতা বিভাগে চলতি বছরের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কবি মোহন রায়হান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক তালিকায় তার নামও ছিল। কিন্তু অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণের সময় মঞ্চ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। পরে পুরস্কার না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে কবিতা বিভাগে ঘোষিত নামের তালিকা থেকে মোহন রায়হান বাদ পড়েন।
অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,“গতকাল সন্ধ্যাতেও পুরস্কার গ্রহণের মহড়ায় অংশ নিয়েছি। তখন আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আজ অনুষ্ঠানে এসে শুনলাম, আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে না। এটি দাপ্তরিকভাবে বাতিল করা হলে সরকারি প্রজ্ঞাপন থাকা উচিত ছিল।”
ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে মোহন রায়হানের দাবি, বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন যে পুরস্কার স্থগিতের সিদ্ধান্ত ‘সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে এসেছে। তার অভিযোগ, চার দশক আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোহন রায়হান বলেন, “৪০ বছর আগের একটি কবিতার কারণে আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি—এমনটাই শুনেছি।”
এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন,“কবি মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠায় পুরস্কারটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”তবে অভিযোগের প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একাডেমির পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বছর অন্যান্য বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন- কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ/গবেষণায় সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মোস্তফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে মঈদুল হাসান।
মনোনয়ন তালিকায় নাম থাকার পরও প্রকাশ্য মঞ্চে পুরস্কার স্থগিত হওয়ায় সাহিত্যাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে পুরস্কার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা নিয়ে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বা পরে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

