আন্দোলনের চতুর্থ দিন, ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা
২৪ ঘন্টার কর্মবিরতি চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পণ্য খালাস করা বন্ধ থাকায় ফাঁকা বন্দর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তোলা ছবি: সমকাল
সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম:নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে চারদিন থেকে আন্দোলন চলছে। টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এমন টানা কর্মসূচিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে। পণ্য খালাসের অপেক্ষায় জেটি ও বহিনোঙরে ভাসছে ৯৮টি জাহাজ। এর মধ্যেঙ চাল, ডাল, চিনি, তেল, খেজুররসহ খাদ্যপণ্য্ রয়েছে অন্তত ৩২টি জাহাজে।
আজ ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে টানা ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর মধ্যে গতকাল হঠাৎ করে বদলি করা হয়েছে ১৫ আন্দোলনকারীকে। আন্দোলন দমাতে এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বদলির সুপারিশ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এক অফিস আদেশে সোমবার এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপিপন্থি দুই শ্রমিক নেতাও আছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, রমজানের আগে এমন ধর্মঘট পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। আশা করছি, শ্রমিক কর্মচারীরা এমন কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন। তা না হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।
এদিকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা এক আদেশে দাপ্তরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে ঢাকার পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত হিসেবে বদলির একদিনের মধ্যে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্তি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন আন্দোলনকারী সংগঠন ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদে’র সমন্বয়ক। উভয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতা।
একই আদেশে পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের এস এস খালাসি মো. ফরিদুর রহমান, উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলামকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোংলা বন্দরে আরও যাদের বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন- উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টোনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং মেসন শামসু মিয়া। পায়রা বন্দরে আরও যাদের বদলি করা হয়েছে। তারা হলেন- স্টোনো টাইপিস্ট জহিরুল ইসলাম, এস এস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, ইসিএম ড্রাইভার লিয়াকত আলী ও খালাসি মো. রাব্বানী।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘আন্দোলন দমাতে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে আমাদের বদলি করছে। হয়রানি করছে। এতে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’(সৌজন্যে:দৈনিকসমকাল)

