জৈন্তাপুর সীমান্তে বিজিবি-গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষে ১ জন গুলিবিদ্ধ, বিজিবি সহ আহত ৬
এসময় জৈন্তাপুর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পুনরায় বিজিবি-গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা বিজিবি’র উপর চড়াই হন।
খবর পেয়ে সহকারি পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নুর আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মাহবুবুর রহমান মোল্লা, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) উসমান গনি সহ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
অন্যান্য আহতরা হলেন বিজিবি’র ল্যান্স নায়েক মোঃ ওমর ফারুক, স্থানীয় গ্রামের মোঃ রায়হান মিয়া (২৪) ও নুরজাহান বেগম (৪০)। গুলিবিদ্ধ আতিকের গায়ে কয়েক রাউন্ড গুলির আঘাত রয়েছে। গায়ের বিভিন্ন স্থানে ৫ রাউন্ড গুলি লেগেছে বলে জানা যায়। অপরদিকে বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম মাথায় গুরুত্বর আঘাত পান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নং-১২৮৭-৮৮ মেইন পিলার এলাকায় ১৯ বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের জৈন্তাপুর রাজবাড়ি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্য হাবিলদার মোঃ কামাল হোসেন, ল্যান্স নায়েক মোঃ ওমর ফারুক সহ ৫/৬জন বিজিবি সদস্যরা টহল কাজে যান। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দা যুবক ও তরুনদের রাতের বেলা চলাচলে সতর্ক করেন। এনিয়ে বিজিবি’র সাথে যুবকদের বাক বিতান্ডা হয়। এসময় বিজিবি সীমান্তবর্তী বসতবাড়ি তল্লাসি এবং স্থানীয় কয়েকজন যুবককে লাটি চার্জ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে লোকজন জড় হয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে যান।
২০ জানুয়ারি টিপরাখলা সীমান্তে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু চোরাচালান আটকের ঘটনায় স্থানীয় চোরাকারবারি এবং বিজিবি’র মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিজিবি জৈন্তাপুর মডেল থানার স্থানীয় গ্রামবাসির অন্তত ৩০/৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়র করে। মামলা নং-১৮। তারিখ:-২১জানুয়ারি-২০২৬।এলাকার বাসিন্দাগণের উপর মামলা দায়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে এবং বৃহস্পতিবার বিজিবি সদস্যরা গৌরীশংকর-টিপরাখলা এলাকায় টহল কাজে যাওয়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসির বসতঘর তল্লাসি করা ও কয়েকজন তরুনের উপর লাটি চার্জ করা ও চোরাচালান কাজে জড়িতদের সাথে বাক বিতন্ডার জেরধরে এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম মাথায় গুরুত্বর আঘাত পেয়ে আহত হন।
এই ঘটনায় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় গ্রামবাসির কয়েকজনকে লক্ষ্য করে অন্তত ১৫/১৬ রাউন্ড গুলি করে। এতে আতিক গুলিবিদ্ধ এবং কয়েকজন আহত হন । এই ঘটনার পর এলাকায় বিজিবি’র অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থল সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন ১৯ বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের উর্দতন কর্মকর্তাগণ। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করতে কর্মকর্তাগণ স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আতিক সহ আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিজিবি খোঁজ-খবর রাখছে বলে জানাগেছে। এবিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, বিজিবি সদস্য সহ গুলিবিদ্ধ গুরত্বর আহতকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করতে মাঠে কাজ শুরু করছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে(।সৌজন্যে:দৈনিক জনকন্ঠ)

