এ ভূমিকম্পে বাংলাদেশের ঝুঁকি বেড়ে গেল, অভিমত বিশেষজ্ঞের

হুমায়ুন আখতার, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ:গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারে আসলে পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়। প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। পরে ১২ মিনিটের ব্যবধানে আরেকটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। শক্তিশালী ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে মান্দালয়ের সাগাইং শহরের কাছাকাছি। সাগাইং নামে একটি দীর্ঘ চ্যুতি আছে। এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ থেকে আন্দামান সাগর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এ সাগাইং–চ্যুতির বিভিন্ন অংশে গত ১৮৫ বছরে ৭টির বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। তার মধ্যে ১৮৩৯ সালে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হয় ৮ দশমিক ৩ মাত্রার।
গতকাল যে ভূমিকম্প হলো তার উৎপত্তিস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে ব্যাংকক শহরের বহুতল ভবন এবং অনেক রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মিয়ানমারে তো অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূকম্পন চীন এবং ভারতের বিহারের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হয়েছে। এবার যে ভূমিকম্প হলো, সেটি হয়েছে ‘ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোনের’ মধ্যে।
সাবডাকশন জোন হলো এমন একটি এলাকা, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ হয় এবং একটির নিচে অন্যটি তলিয়ে যায়। এই ‘ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোনের’ বিস্তৃতি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকা পর্যন্ত। এটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এই ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোনের আবার কয়েকটি ভাগ আছে। এর একটি হলো লকড জোন, আরেকটি হলো স্লো-স্লিপ জোন। লকড জোনে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এটা বাংলাদেশের পূর্ব প্রান্তে বা সাবডাকশন জোনের পশ্চিমে অবস্থিত। এই দুই সাব–জোনের বাইরে ইন্দো-বার্মা সাবডাকশন জোনের মধ্যেই আছে সাগাইং ফল্ট। এটি শান মালভূমি ও সেন্ট্রাল মিয়ানমার বেসিনের সংযোগ এলাকা। সেখানেই এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। এলাকাটি ভূমিকম্পপ্রবণ। কিন্তু এর কিছু ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য আছে। এখানে এর আগে ১৯৩০ সালে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয় ব্যাগোতে। এলাকাটি সমুদ্রের কাছাকাছি। ওই সময় সুনামিরও সৃষ্টি হয়।
হুমায়ুন আখতার, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক( সৌজন্যে:দৈনিক প্রথম আলো)

