খ্যাতিমান রুশ লেখক লিও টলস্টয়’র মহাপ্রয়াণ দিবস আজ

লিও টলস্টয়
প্রান্তডেস্ক:লিও টলস্টয় একজন খ্যাতিমান রুশ লেখক। তাকে রুশ সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক, এমনকি বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তার দুইটি অনবদ্য উপন্যাস যুদ্ধ ও শান্তি (ইংরেজি War and Peace; রচনাকাল ১৮৬৩-১৮৬৯) এবং আন্না কারেনিনা ( রচনাকাল ১৮৭৫-১৮৭৭)।
জ্ঞানার্জনে অসীম আগ্রহী; অদম্য অনুসন্ধিৎসু, অফুরন্ত জীবনীশক্তির অধিকারী ও কর্মোদ্যমী এই বিখ্যাত মানুষটির জন্ম ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার টুলা প্রদেশে। টলস্টয়ের পুরো নাম কাউন্ট লেভ নিকোলায়েভিচ টলস্টয়। তিনি মানুষের মধ্যে জীবনবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, নীতিবোধ জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন। টলস্টয় তাঁর সময়ের বিশিষ্ট প্রগতিবাদী বৈপ্লবিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ।
পরিবারের চতুর্থ সন্তান ছিলেন টলস্টয়। শৈশবেই পিতা মাতার মৃত্যুর পর টলস্টয় তাঁর পিসির কাছে মানুষ হন। বাল্যকালে বাড়িতেই টলস্টয় এর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। মাত্র ৫- ৬ বছর বয়সে তিনটি ভাষায় তাঁর হাতেখড়ি হয়- মাতৃভাষা রুশ, জার্মানি এবং ফরাসি। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে কাজান বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং প্রাচ্যদেশীয় ভাষা শিক্ষার ছাত্র হিসাবে পড়াশোনা আরম্ভ করলেও সাফল্য আসেনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কৃষক হওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বাবার জমিদারিতে ফিরে আসেন।প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সফল না হলেও তিনি রবীন্দ্রনাথের মতোই প্রকৃত অর্থে স্বশিক্ষিত ছিলেন। নিজের চেষ্টায় গ্রিক ,আরবি, লাতিন, ইংরেজি সহ বহু ভাষায় তিনি দক্ষতা অর্জন করেন। চিত্রকলা এবং সঙ্গীতশাস্ত্রেও টলস্টয় পারদর্শী ছিলেন।
১৯১০ সালের ২০ নভেম্বর রাশিয়ার আস্তাপোভো নামক এক প্রত্যন্ত স্থানের রেলওয়ে স্টেশনে তিনি নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ১৯২৮-১৯৫৮ এর মধ্যবর্তী সময়ে তার সাহিত্যকর্ম ৯০ খণ্ডে বিভক্ত হয়ে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এ প্রকাশিত হয়।