সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

ধনী ১ শতাংশ মানুষের হাতে বিশ্বের ৮২ শতাংশ সম্পদ



foxপ্রান্তডেস্ক:বিশ্বজুড়ে গত বছর যত সম্পদ বেড়েছে, তার কানাকড়িও জোটেনি পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার। অপরপক্ষে ধনসম্পদের দিক থেকে শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর হাতে গেছে বিশ্বের ৮২ শতাংশ সম্পদ। বিশ্বজুড়ে সম্পদ ও আয় বৈষম্যের এমন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক অক্সফামের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ বেড়েছে ৭৯২০০ কোটি ডলার। বৃদ্ধি পাওয়া এই অর্থ দিয়ে বিশ্বের চরম দারিদ্র্যের সাতগুণেরও বেশি দূর করা সম্ভব।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক উইনি ব্যানিয়িমাবিলিয়নিয়ারদের এই বিপুল সম্পদ বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি বলেন, যে মানুষেরা আমাদের কাপড় বানায়, ফোন জোড়া লাগায়, খাদ্য উৎপাদন করে, তারা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যাতে আমরা সস্তা দামে পণ্য পাই। অপরদিকে, বড় বড় কর্পোরেশন ও বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারীদের সম্পদ ফুলে ফেঁপে উটছে।
গত বছরই পৃথিবীর জ্ঞাত-ইতিহাসে বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি দুই দিনে একজন করে মানুষ বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। বর্তমানে বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২০৪৩ জন। এদের ৯০ শতাংশই হলেন পুরুষ। আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসে’র গ্লোবাল ওয়েলথ ডাটাবুক ২০১৭ ব্যবহার করে এই অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছেছে অক্সফাম।
সংস্থাটি বলেছে, আয়কর ফাঁকি, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘণ ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের প্রসারের ফলে বিশ্বে ধনী গরিবে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। এক্ষেত্রে ধনীদের জন্য আয়কর বৃদ্ধি, সরকারী প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি, বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস ও ন্যুনতম মজুরীর বদলে জীবিকা উপযোগী মজুরী প্রণয়নের মাধ্যমে সামগ্রিক সম্পদ পুনর্বণ্টনের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে সমালোচকরা বলেছেন, অক্সফার দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা চিন্তা না করে, ধনীদের নিয়ে পড়ে আছে। অক্সফামের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইন্সটিটিউট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের মহাপরিচালক মার্ক লিটলউড এক বিবৃতিতে বলেন, পুঁজিবাদকে খারাপভাবে উপস্থাপন করাটা সমৃদ্ধ পশ্চিমা বিশ্বে এখন ফ্যাশনের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মুক্ত বাজার অর্থনীতির ফলশ্রুতিতে লাখ লাখ মানুষ যে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, সেই কথাটি এখানে বলা হয় না। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে ধনীদের ওপর খুব উঁচু হারে করারোপ করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় তাদের সম্পদ আর বাড়তে না দিলে সম্পদ পুনর্বণ্টন হবে না। বরং, এটি তাদের সম্পদকে ধ্বংস করে দেবে, যাতে লাভ হবে না কারোই।
তিনি আরও বলেন, ন্যুনতম মজুরী বৃদ্ধি করা হলে অনেকেই কর্মসংস্থান হারাবেন। অক্সফাম যাদের সাহায্য করতে চায়, সেই দরিদ্র্যরাই এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
সোমবার অক্সফামের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক আগে আগে। প্রতি বছরের মতো এবারও এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী, সিইও, রাজনীতিক, পেশাজীবী ও অভিজাত ব্যক্তিবৃন্দ। এবারের সম্মেলনে ‘চিড় ধরা বিশ্বের জন্য অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়া’র ওপর নজর দেওয়া হবে বলে ফোরামের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে। গত বছরও দাভোস সম্মেলনের আগে অক্সফাম ধনী ও দরিদ্র্যের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যকে তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ৩৬০ কোটি মানুষের যেই সম্পদ, ঠিক সেই পরিমাণ সম্পদ রয়েছে শীর্ষ ৮ জন ধনীর। সেবারও অক্সফামের এই প্রতিবেদন নিয়ে ব্যপক আলোচনা তৈরি হয়।

Developed by: