সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনেকটাই মহামারী: প্রতিকার জরুরী



বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনেকটাই মহামারী আকার ধারণ করেছে । বিপরীতে প্রতিকার উদ্যোগ তেমন জোরালো নয়। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সড়ক দুর্ঘটনা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার হার বেড়েছে ২২ দশমিক ২ শতাংশ। পথচারী মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বছরে সড়কদুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৪২ ভাগের বেশি পথচারী! যা সচেতন নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ৪ হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৯৭ জন নিহত ও ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। এতে সর্বমোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক, পরিবহন ও শ্রমিক হতাহত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা মোট জিডিপির দুই ভাগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে সংঘটিত হয়। একই সঙ্গে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ও আহতের হার ১ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সব খবর গণমাধ্যমে আসে না। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনাজনিত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্ট বলছে, বিশ্বে সড়কদুর্ঘটনার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশে সড়কদুর্ঘটনায় এক দশকে যত মানুষ মারা যায়, বড় বড় যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায়নি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সড়কে প্রতি বছর বাংলাদেশে ২১ হাজার প্রাণহানি ঘটছে। গত এক দশকে সড়কদুর্ঘটনায় বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। ড্রাইভারদের গাফিলতির কারণে ও অদক্ষতায় সংঘটিত দুর্ঘটনায় নিঃস্ব হয়ে পথে বসে অনেক পরিবার। বিজ্ঞজনদের মতে সড়কদুর্ঘটনার কারণগুলো হচ্ছে- বে-পরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক অভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ক্রটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পরা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝপথে পথচারীদের যাতায়াত।
আমরা মনে করি, সরকার কিছুতেই সড়কদুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি এড়াতে পারে না। কারণগুলো শণাক্ত করে একে একে সমাধানের চেষ্টা করা জরুরি। আর সরকার একার পক্ষে এই সমস্যার সমাধান কঠিন। এজন্য সমন্বিত চেষ্টা প্রয়োজন। যেকোন ধরনের যানবাহনের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস বাধ্যতামূলককরণ, চালক ও সহকারীসহ সব ধরনের পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র ও শ্রমআইন মেনে মজুরি-ভাতা প্রদান এবং তাদের শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, অবৈধ-ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সারা বছর বিআরটিএর অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চালানোর দায়ে চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীর সঙ্গে মালিককেও আইনের আওতায় আনা, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য দায়ী চালকের মৃত্যুদন্ড-, সহকারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড- ও আহতের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হতাহত পরিবারকে মালিকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইন প্রণয়ন, সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলো নিয়মিত সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সতর্ক সংকেত স্থাপন, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, সব ধরনের যানবাহনে ‘যাত্রীবীমা’ এবং চালক, সুপারভাইজার ও সহকারীদের জীবনবীমা বাধ্যতামূলককরণসহ বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার।

Developed by: