সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

মহানায়িকার মৃত্যুবার্ষিকী আজ



foxপ্রান্তডেস্ক:সুচিত্রা সেন ছিলেন কিংবদন্তী ভারতীয় অভিনেত্রী। জন্মগত নাম রমা দাশগুপ্ত হলেও চলচ্চিত্র জগতে তিনি সুচিত্রা সেন নামেই ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। বাংলা ও হিন্দি- দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। বাংলা চলচ্চিত্রে কালজয়ী নায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি পেয়েছিলেন বিশেষ জনপ্রিয়তা।
আজ সেই মহানায়িকার মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়। তখন তিনি কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্যে গান স্যালুট দেয়ার ঘোষণা করেন। এছাড়া ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী-পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদী নায়িকার মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠান।
ভারতীয় অভিনেত্রী হলেও বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন সুচিত্রা সেন। জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন বাংলাদেশি। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির পাবনা জেলার সদরে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। সুচিত্রা ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পড়াশোনাও করেছিলেন এই পাবনা শহরেই।
১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাঁর একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও ভারতের একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী। সুচিত্রা সেনের অভিনয় জগতের পথচলা শুরু হয় ১৯৫২ সালে। তাঁর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘শেষ কোথায়’।
কালজয়ী নায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে। ছবিটি বক্স-অফিসে সাফল্য লাভ করে। ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় উত্তম-সুচিত্রা জুটিও। তার পর থেকে বাংলা ছবি মানেই ছিল উত্তম-সুচিত্রা। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী। বাংলা ছবির এই অবিসংবাদিত জুটি পরবর্তী ২০ বছরে ছিলেন আইকন স্বরূপ।
সুচিত্রা সেন হিন্দি ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন ১৯৫৫ সালে। ‘দেবদাস’ এর মতো বিখ্যাত সিনেমা দিয়েই তাঁর বলিউডে যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথম ছবিতেই জিতে নিয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। ক্যারিয়ারে মোট চারটি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন নায়িকা। স্বামীর মৃত্যুর পরও যিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন।
১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সুচিত্রা সেন ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ অর্জন করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। এর পর ১৯৭২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করে। ২৫ বছর সুনামের সঙ্গে অভিনয়ের পর ১৯৭৮ সালে চলচ্চিত্রকে বিদায় জানান সুচিত্রা।
হিন্দি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রতিবছরই দাদাসাহেব সম্মাননা প্রদান করে ভারত সরকার। অবসরের প্রায় ২৭ বছর পর ২০০৫ সালে এই পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। কিন্তু দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। যার কারণে পুরস্কারটি পাওয়া হয়নি তাঁর। পরে ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মাননা বঙ্গবিভূষণ প্রদান করে।

Developed by: