সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

শীতার্ত মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন



পৌষের শেষপ্রান্তে দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। সাগরে নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে পৌষ মাসজুড়ে শীতের তেমন দেখা না মিললেও বিদায় বেলায় শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। পৌষের শুরুতে দেশে গড় তাপমাত্রা ২৬-২৮ ডিগ্রি থেকে সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও বর্তমানে তা ৮ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। গত ৯ জানুয়ারী তেঁতুলিয়াতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তীব্র শীতে কাঁপছে গ্রামীণ জনপদগুলো। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষত নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ উঠেছে চরমে। দেখা দিচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ-বালাই। শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, নানা পেটেরপীড়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন চলবে। শীতের এ- ছোবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় বাংলাদেশে শীত বেড়েছে। মাঘের শুরুতে তা আরো তীব্র রূপ নিতে পারে। যদি এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের প্রকোপে দরিদ্র মানুষগুলো আরো অসহায় হয়ে পড়বে। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলুসহ বিভিন্ন ফসল। তীব্র শীতের কারণে বিনষ্ট হতে পারে বোরোধানের বীজতলা। ঘন কুয়াশায় নদ-নদী ঢাকা পড়ার কারণে দেশের প্রধান প্রধান নৌ-রুটে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল।কুয়াশার কারনে সড়ক-মহাসড়কে রয়েছে যানবাহনের দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা। ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন ও বিমান চলাচলও। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কে থাকতে হবে সতর্ক । আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাঘ মাসের শেষ দিকে শৈত্যপ্রবাহ কমে তাপমাত্রা বাড়বে। তবে, এর মধ্যেই শীত সাধারণ মানুষকে দুর্ভোেগের চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যদিও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিত্তবানরা ঘর থেকে বের না হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড- ঠান্ডায়ও ঘরের বের হতে হয়। অসহনীয় ঠান্ডা আবহাওয়ায় কাজ করতে না পারায় অসংখ্য মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথও বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরে থাকলেও শীতবস্ত্রের অভাবে তারা শীতের ছোবল থেকে রক্ষা পান না। দুর্ভোগের পাশাপাশি শীতজনিত রোগব্যাধিও তাদের পিছু নেয়। এ অবস্থায় যদি শীতার্ত জনগোষ্ঠী সরকার এবং বিত্তবানদের সহায়তা না পান, তাহলে শীতের ছোবলে তাদের জীবন চরম বিপন্ন হয়ে পড়বে।
আমরা মনে করি শীতার্ত মানুষদের জন্যে শীতবস্ত্র, ওষুধ, খাদ্য প্রভৃতির পর্যাপ্ত সংগ্রহ, মওজুদ ও বিতরণে সরকারের জোরালো কর্মসূচি থাকা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি শীতার্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বিত্তবান লোকজন, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাকেও। প্রচন্ড- শীত ও কুয়াশা ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হছে না, দেশের খাদ্যনিরাপত্তায়ও এর কুপ্রভাব পড়ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানসহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুচিন্তিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রচন্ড- শীত ও ঘন কুয়াশায় ফেরি ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়, যে কারনে গাড়ি চালনায় সতর্কতা অবলম্বনে চালকদের নির্দেশনা প্রদান এবং নজরদারী দরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। আয় রোজগার যাদের বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা দেয়াও দরকার।

Developed by: