সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার



মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় গৌরবময় অর্জনের দিন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ডিসরম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতকামী বাঙালির কাছে চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করেছিল পাকিস্তানী হানাদদার বাহিনী। এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। অবসান হয়েছিল সাড়ে তেইশ বছরের নির্বিচার শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতনের ধারাবাহিকতা।
বাঙালি জাতির চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বেও রাজনৈতিক মানচিত্রে ভাস্বর হয়েছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সংগতকারণেই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী প্রতি বাঙালির কাছে বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সীমাহীন। এই মহান দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের। বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি, যিনি বাঙালি জাতির কান্ডারী হয়ে কোটি কোটি মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিলেন; যার সুনেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে বাঙালি জাতির হাজার বছরের লালিত স্বপ্নের বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নামক এই জনপদটির একটি বিরাট সময় কেটেছে বিদেশীদের শাসন-শোষণে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাউদৌলার পতনের মধ্য দিয়ে এই জনপদে ব্রিটিশদের শোষণ শুরু হয়। ব্রিটিশদের বিদায় হলে শোষক হিসেবে আবির্ভূত হয় পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকশ্রেণি। এই জনপদের মানুষের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা আর অবহেলা চরম আকার ধারণ করলে প্রতিবাদে ক্রমে অগ্নিগর্ভ হতে থাকে এ অঞ্চল। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনের জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে তারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকারী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে টালবাহানা শুরু করে শাসকগোষ্ঠী। ফলে ক্ষোভে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তান। একাত্তরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ জনগণের স্বাধীনতার স্পৃহাকে প্রবল করে তোলে। পাকিস্তানি শাসকচক্র আমাদের মুক্তির স্পৃহাকে দমনের পথ বেছে নেয়। জন্ম দেয় ২৫ মার্চের কালরাতের। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিসংগ্রামের পর পরাজয় মেনে নেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের আজকের দিনে রেসকোর্স ময়দানে ৯১ হাজার ৪৯৮ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিয়ে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে শুরু থেকেই অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। শত্রুরা চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশ যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারে। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্রবিমোচন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধ, শিক্ষাবিস্তার, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে, বাংলাদেশ এখন নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। ২০২১ খ্রিস্টাব্দের আগেই পরিণত হবে মধ্যম আয়ের দেশে। সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ তথা শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাইলে বৈষম্যহীন সমাজ ও অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ গঠনে নজর দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আসুন, সবাই মিলে একটি সেবামুখী, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মহান বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাওয়া।

Developed by: