সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের ছবি নিয়ে হিসাব-নিকাশ এখনো মিলছে না  » «   ১১ প্রশ্নে ৮২ ভুল!  » «   মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : আরেকটা হাতছানি  » «   ২ সেপ্টেম্বর শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু  » «   এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «  

দরিদ্রদের জন্য র্দুদিন শীত এসেছে



শীত এসে গেছে। যদিও ঋতুচক্রের হিসেব অনুযায়ী এখনও চলছে হেমন্তকাল। সাধারণত এ সময় শীতের আগমনী বার্তা থাকে মৃদু ঠান্ডা হাওয়া এবং কুয়াশার মাধ্যমে, কিন্তু এখন রীতিমতো প্রচন্ড– প্রতাপে নেমে এসেছে শীত। শহুরে জনপদে শীতের তীব্রতা তেমন অনুভব না হলেও গ্রামীণ জনপদে কনকনে শীত গরীব–দুখী মানুষদের জীবনযাত্রা কাহিল করে তুলছে। অগ্রহায়ণের বিদায়কালে জেঁকে বসছে শীত। তীব্র শীতে কাঁপছে সারাদেশের গ্রামীণ জনপদগুলো। শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দেখা দিচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগ–বালাইও। চলতি বছর বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা গতবছরের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এ অবস্থায় শীতের ছোবল থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা কারণে গত বছর তেমন শীত পড়েনি। পৌষের মাঝামাঝি সময়েও শীতের তীব্রতা ছিল না। কিন্তু এবার তার উল্টোটিই হবে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উল্লেখ্য, নিকট অতীতে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে শীতের প্রকোপ ছিল বেশি। ওই বছর জানুয়ারির শুরুতেই তিন দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় দেশজুড়ে। সে সময় চার দশকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়। এবারও শীতের প্রকোপ বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বরের পরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতেও শীতের প্রকোপ থাকবে এবার। আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস থেকে বুঝা যাচ্ছে, এবার শীত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যদিও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতের কারণে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিত্তবানদের অনেকেই ঘরের বাইরে বের হন না। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে জীবিকার তাগিদে প্রচন্ড ঠান্ডায়ও ঘরের বাইরে যেতে হয়। শীত উপেক্ষা করেই জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয় তাদের। আবার ঘরে থাকলেও শীতবস্ত্রের অভাবে তারা শীতের ছোবল থেকে রক্ষা পান না। শীতে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। শীতজনিত রোগব্যাধিও তাদের পিছু নেয়। শীতজনিত নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও রোটা ভাইরাস ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন দরিদ্র সমাজের জনগণ। এ অবস্থায় যদি শীতার্ত জনগোষ্ঠী সরকার এবং বিত্তবানদের সহায়তা না পান, তাহলে শীতের ছোবলে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই তাদের রক্ষায় সুচিন্তিত উদ্যোগ থাকা জরুরি।
আমরা মনে করি, শীতের ভরমৌসুমের আগেই শীতার্ত মানুষদের জন্যে শীতবস্ত্র, ওষুধ, খাদ্য প্রভৃতির পর্যাপ্ত সংগ্রহ, মওজুদ ও বিতরণে জোরালো কর্মসূচি থাকতে হবে। শীতার্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে বিত্তবান লোকজন, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাকেও। প্রচন্ড– শীত ও কুয়াশা ফসল উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশের খাদ্যনিরাপত্তায়ও এর কুপ্রভাব পড়ে। বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানসহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুচিন্তিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রচন্ড– শীত ও ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে যায়। তাই এসময় গাড়ি চালনায় সতর্কতা অবলম্বনে চালকদের নির্দেশনা প্রদান এবং নজরদারী দরকার। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।

Developed by: