সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দর্শন অনুসরনে সাম্য মৈত্রী ভাতৃত্বের ভুবন গড়ে তুলুন



সমগ্র মানবজাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা সেখানে নানা রকমের সংস্কারকের দেখা পাই। পৃথিবীর বুকে আর্বিভূত হয়েছিল অনেক দার্শনিক, বড় বড় চিন্তাবিদ, বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি, রাজা–মহারাজা, সম্রাট, দ্বীগবিজয়ী বীর, বড় বড় দল ও মতের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ কাঠামোতে বার বার আলোড়ন সৃষ্টিকারী দোর্দন্ড প্রতাপশালী বিপ্লবী, নিত্য নতুন ধর্মমতের প্রবর্তক এবং আইন প্রণেতাগণ। কিন্তু নবী–রাসূলগণ ব্যতীত বাকীদের জীবনী, আদর্শ এবং সার্বিক কর্মকান্ড পর্যালোচনা করলে কোথাও কোন পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ এবং সুফল দেখা যায় না।
যেটুকু কল্যাণ ও সুফল চোখে পড়ে তা নিতান্তই আংশিক, একপেশে এবং ক্ষণস্থায়ী। প্রকৃতপক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাধ্যমেই সাধিত হয়েছিল মানব সভ্যতার প্রকৃত উত্থান এবং উজ্জীবন। সত্য ও ন্যায়ের এক স্বর্ণোজ্জ্বল প্রভাতের অভ্যুদয় ঘটিয়ে তিনি সভ্যতার আকাশকে করেছিলেন মেঘমুক্ত। উদ্বোধন করেছিলেন সত্য ও ন্যায়ের এক ঐতিহাসিক যুগের। বিশ্ব ইতিহাসে এটা এত বড় র্কীতি ও কৃতিত্ব যার উদহারণ দ্বিতীয়টি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। ইতিহাসের আলোকে তাই তিনি এক ক্ষণজন্মা, মহান, কর্মতৎপর, দূরদ্রষ্টা, সত্যসন্ধ মহাপুরুষ হিসেবে প্রশংসিত, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়–বরণীয়। এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার মতো প্রকাশনাও র্দ্ব্যথহীন ভাষায় স্বীকৃতি প্রদান করেছে যে, “ জগতের সকল ধর্ম প্রবর্তক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনিই [হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)] হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা সফল।”
ইতিহাসে মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অবস্থান যে কতটা গৌরবদীপ্ত তা বোধ হয় ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। ফরাসী সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রকাশ্যেই ঘোষণা করেছিলেন যে, “ মুহাম্মদের ধর্মই আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়। অতঃপর মহানবী (সাঃ) এর অনুপম চরিত্র ও বহুমুখী প্রতিভায় আকৃষ্ট এবং অভিভূত হয়ে তিনি এই মর্মেও আশা প্রকাশ করেন যে, “ সে সময় খুব দূরে নয় যখন সকল দেশের বিজ্ঞ ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের আমি একতাবদ্ধ করতে পারব এবং কুরআনের যে নীতিসমূহ একমাত্র সত্য এবং যে নীতিসমূহই মানুষকে সুখের পথে পরিচালিত করতে পারে সে সব নীতির উপর ভিত্তি করে এক সমরূপ শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।” মহানবী (সাঃ) সর্ম্পকে আরো একটি বলিষ্ঠ স্বীকৃতি উচ্চারিত হয় বিখ্যাত মনীষী টমাস কার্লাইলের কন্ঠে। ১৮৪০ সালে এডিনবার্গে আয়োজিত একটি সভায় দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তিনি ঘোষণা করেন যে, “ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, ঈশ্বর প্রেরীত দূত বা নবীদের মধ্যেও নায়কের স্থান অধিকার করে রয়েছেন সুদূর আরবের হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।” অতঃপর তিনি তাঁর প্রাঞ্জল অনুপম ভাষায় আরো বলেনঃ “ জগতের আদিকাল হতে আরবরা মরুভূমির মধ্যে বিচরণ করে বেড়াত এক অজ্ঞাত, অখ্যাত মেষপালক জাতি হিসেবেই। অতঃপর তারা হৃদয়ঙ্গম করতে পারে এমন একটা বার্তাসহ সেখানে এক ধর্মবীর পয়গম্বর প্রেরীত হলেন, আর অমনি যাদুর মতো সেই অখ্যাত জাতি হয়ে উঠল জগদ্বিখ্যাত, দীনহীন জাতি হয়ে গেল জগতের শ্রেষ্ঠ জাতি।
তারপর এক শতাব্দীর মধ্যে পশ্চিমে গ্রানাডা হতে পূর্বে দিল্লী পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হলো আরবদের আধিপত্য। সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে পৃথিবীর এক বিশাল অংশের উপর আরবদেশ মহাসমারোহে এবং বিক্রমের সাথে তার দ্যুতি বিকিরণ করেছে।” ফরাসী দেশের অন্যতম শ্রেষ্ট পন্ডিত ও ইতিহাসবিদ প্রফেসর লা মার্টিন তার ‘‘তুরস্কের ইতিহাস’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “ কার এমন ধৃষ্টতা আছে যে, ইতিহাসের অন্য কোন মহামানবের সাথে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর তুলনা করতে পারে? প্রায় সব বিখ্যাত মানুষেরা যদি কিছু অর্জন করেই থাকে তা তো জাগতিক শক্তি সামর্থ্য বৈ কিছুই নয়, যা প্রায় ক্ষেত্রে তাদের সম্মুখেই টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই মহামানব [হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)] শুধুমাত্র সেনা বাহিনীই পরিচালনা করেননি, আইনই কেবল প্রণয়ন করেননি, রাজ্যই কেবল প্রতিষ্ঠা করেননি, জনসাধারণকেই কেবল সুসংগঠিত করেননি, কেবল খিলাফতের ধারাবাহিকতাই স্থাপন করেননি বরং তিনি সেই সময়কার জানা দুনিয়ার তিন ভাগের এক ভাগ অথবা ততোধিক জনপদের লাখ লাখ অধিবাসীর জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। তাদেরকে উদ্ধার করেছেন কল্পিত দেব–দেবীর খপ্পর থেকে।
ধর্মীয় ধ্যান–ধারণা, চিন্তা–চেতনা ও বিশ্বাসে এনেছেন পরিবর্তন। বিকশিত করেছেন তাদের আত্মা ও মননকে। একটি মহাগ্রন্থের ভিত্তিতে নির্মাণ করেছেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক জাতীয়তা যা প্রত্যেক ভাষার মানুষকে, প্রত্যেক গোত্রের মানুষকে এক অনন্য ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। সেই মহাগ্রন্থের প্রতিটা অক্ষর পরিণত হয়েছে আইনে। দার্শনিক, সুবক্তা, রাসূল, আইন প্রণয়নকারী, বীরযোদ্ধা, নিরাকারের ইবাদত আনয়নকারী, কুড়িটি জাগতিক সাম্রাজ্যের এবং একটি আধ্যাত্মিক সা¤্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকারী হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
মানুষের বিরাটত্ব ও মহত্ত্ব পরিমাপের তাবৎ মানদন্ড একত্র করে আমাদের শুধু একটিমাত্র প্রশ্নঃ তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কোন মানুষ কি আর কোথাও আছেন?’’ লা মার্টিন আরো বলেন, ‘‘তিনি ছিলেন বিন¤্র তবে নির্ভীক, শিষ্ট তবে সাহসী, ছেলে মেয়েদের মহান প্রেমিক তবে বিজ্ঞজন পরিবৃত। তিনি ছিলেন সবচেয়ে সম্মানিত, সব চেয়ে উন্নত, বরাবর সৎ, সর্বদাই সত্যবাদী, শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসী এক প্রেমময় স্বামী, এক হিতৈষী পিতা, এক বাধ্য ও কৃতজ্ঞ পুত্র, বন্ধুত্বে অপরিবর্তনীয় এবং সহায়তায় ভ্রাতৃসুলভ, দয়ার্দ, অতিথিপরায়ণ, উদার, এবং নিজের জন্য সর্বদাই মিতচারী। কিন্তু তিনি কঠিন ছিলেন মিথ্যা শপতের বিরুদ্ধে, ব্যভিচারীর বিরুদ্ধে।
খুনী, কুৎসা রটনাকারী, অর্থলোভী, মিথ্যা সাক্ষ্যদাতা–এ ধরণের লোকদের বিরুদ্ধে। ছিলেন ধৈর্য্য,ে বদান্যতায়, দয়ায়, পরোপকারিতায়, কৃতজ্ঞতায়, পিতা–মাতা গুরুজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে এবং নিয়মিত মহান আল্লাহ্র প্রার্থনা অনুষ্টানে এক মহান ধর্ম প্রচারক।’’ জার্মানীর প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পন্ডিত ড. গুস্তাভ উইল মহানবী (সাঃ) কে বিশ্বে আইনপ্রণেতা ও সমাজ সংস্কারের মূর্ত প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্য একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্টানলি লেনপুল বলেছেন, ধর্ম ও সাধুতার প্রচারক হিসেবে মুহাম্মদ (সাঃ) যে রকম শ্রেষ্ট ছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও ছিলেন অনুরূপ শ্রেষ্ট। তিনি অদ্ভুত শক্তিতে, হৃদয়ের উষ্ণতায়, অনুভূতির মাধুর্য ও শুদ্ধতায় ছিলেন বিশিষ্ট। জীবনে কাউকে তিনি আঘাত করেননি। তিনি [হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)] বলেছিলেন, ‘‘ কাউকে অভিশাপ দেয়ার জন্য আমি প্রেরিত হয়নি, প্রেরিত হয়েছি বিশ্বজাহানের আর্শীবাদ স্বরূপ।’’ প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড গিবন বলেন, ‘‘ আশ্রয়প্রার্থীর জন্য বিশ্বস্ততম রক্ষাকারী ছিলেন মুহাম্মদ (সাঃ)। কথাবার্তায় সবচেয়ে মিষ্টভাষী, সবচেয়ে মনোজ্ঞ, তাঁকে যারা দেখেছেন তারা আবেগাপ্লুত হয়েছেন অপ্রত্যাশিতভাবে।
যারা কাছে এসেছেন তারা তাঁকে ভালোবেসেছেন। পরে তারা বলেছেন তাঁর মতো মহামানব আগে কখনো দেখেনি, পরেও না। মুহাম্মদ (সাঃ) এর স্মৃতিশক্তি ছিল গভীর, তাঁর রসিকতা ছিল শালীন। তাঁর কল্পনা ছিল উন্নত ও মহৎ। তাঁর বিচারবুদ্ধি ছিল তীক্ষè। জাগতিক শক্তির সর্বোচ্চ শিখরে পৌছেও মুহাম্মদ (সাঃ) নিজ গৃহের কাজগুলোও করতেন নিজ হাতে। তিনি আগুন জ্বালাতেন, ঘর ঝাড়– দিতেন, দুগ্ধ দোহন করতেন এবং নিজ হাতে কাপড় সেলাই করতেন। তাঁর আনীত ধর্ম বিধান সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য।’’ লেবাননের হিট্টি বংশীয় প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মার্কিন মুল্লুকে অধ্যাপনায় প্রশংসিত প্রফেসর ফিলিপ কে হিট্টি আরবজাতি ও আরবদেশ সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ অনেকগুলো ইতিহাস গ্রন্থ লিখেছেন। তিনি মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর স্বল্প পরিসর জীবনে অনুল্লেখযোগ্য জাতির মধ্য হতে এমন একটি জাতি ও ধর্মের গোড়াপত্তন করলেন যার ভৌগলিক প্রভাব খ্রীষ্টান ও ইহুদীদেরকেও অতিক্রম করলো।আমরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দর্শন অনুসরনে সাম্য মৈত্রী ভাতৃত্বের ভুবন গড়ে তুলতে সবাই কে এগিয় আসার আহবান জানাই পবিত্র ঈদে মিলাদুনবীর পবিত্রতমদিনে

Developed by: