সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের ছবি নিয়ে হিসাব-নিকাশ এখনো মিলছে না  » «   ১১ প্রশ্নে ৮২ ভুল!  » «   মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : আরেকটা হাতছানি  » «   ২ সেপ্টেম্বর শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু  » «   এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «  

কেন শিক্ষার ভিত এত নড়বড়ে?



আমাদের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই শিক্ষাঙ্গনটি মূলত একটি মানবশিশুর ভিত তৈরি করে। মেরুদন্ড- শক্ত হওয়ার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। শিক্ষার্থীর মনে বপন করা হয় শিক্ষা নামক একটি অমূল্য বীজ। কিন্তু অঙ্কুরেই সেই বীজ যদি কীটপতঙ্গে আক্রান্ত হয়, তাহলে সেখান থেকে ভালো ফসলের আশা করা যায় না। ঠিক সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা।
বর্তমানে দেশের ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঘাটতি দেড় লাখ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কের) হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ৪৬ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকা বাঞ্ছনীয়। অথচ দেশে রয়েছেন ৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্যে একজন শিক্ষক । একটি প্রতিষ্ঠানের যদি অভিভাবক না থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হবে কীভাবে?
বর্তমানে প্রাথমিকের গন্ডি পেরোনো অনেক শিক্ষার্থী নিজের শ্রেণির নাম বলতে পারলেও লিখতে পারে না। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ শতাংশের বেশি। যারা নিজের নাম লিখতে পারে না, তারা পরবর্তীকালে গিয়ে কী করবে ?যার প্রভাব পড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গিয়ে।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক পরিবর্তন এনেছে।পরিবর্তনের বেশিরভাগই ইতিবাচক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার বাড়ছে। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে। কিন্তু এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষকরা ক্লাসে মনোযোগী হন। প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট জিইয়ে রেখে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব না। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যাতে প্রকৃত মেধাবীরাই উত্তীর্ণ হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের খেলাচ্ছলে আনন্দের সঙ্গে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। তাহলেই প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থায় রূপ নেবে।

Developed by: