সর্বশেষ সংবাদ
ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের কমিটি : ঘোষণা উপজেলার, বাতিল জেলার  » «   ক্রীড়া সংগঠক আব্দুল কাদিরের মায়ের ইন্তেকাল  » «   রণবীর-দীপিকা বিয়ে নভেম্বরে?  » «   যাদুকর ম্যারাডোনার পায়ের অবস্থা করুণ  » «   একটু আগেবাগেই শীতের আগমণ  » «   চট্টগ্রামে আইয়ুব বাচ্চুর জানাযা বাদ আছর  » «   রাবণ পোড়ানো দর্শনকারী ভিড়ের উপর দিয়ে ছুটে গেলো ট্রেন : নিহত ৬০  » «   গোলাপঞ্জে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করলেন শিক্ষামন্ত্রী  » «   বিসর্জনের দিন সিলেটে আসনে ‘দেবী’  » «   বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে মেয়র আরিফ  » «   সিলেটে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত  » «   শীতে ত্বক সজীব রাখতে শাক-সবজি খান  » «   সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংস্কার হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে  » «   কোম্পানীগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযানে পেলোডার মেশিন জব্দ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে সরকারকে নোটিশ  » «  

কেন শিক্ষার ভিত এত নড়বড়ে?



আমাদের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই শিক্ষাঙ্গনটি মূলত একটি মানবশিশুর ভিত তৈরি করে। মেরুদন্ড- শক্ত হওয়ার ভিত্তি গড়ে ওঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। শিক্ষার্থীর মনে বপন করা হয় শিক্ষা নামক একটি অমূল্য বীজ। কিন্তু অঙ্কুরেই সেই বীজ যদি কীটপতঙ্গে আক্রান্ত হয়, তাহলে সেখান থেকে ভালো ফসলের আশা করা যায় না। ঠিক সে দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা।
বর্তমানে দেশের ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঘাটতি দেড় লাখ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কের) হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ৪৬ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকা বাঞ্ছনীয়। অথচ দেশে রয়েছেন ৬৮ জন শিক্ষার্থীর জন্যে একজন শিক্ষক । একটি প্রতিষ্ঠানের যদি অভিভাবক না থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে পরিচালিত হবে কীভাবে?
বর্তমানে প্রাথমিকের গন্ডি পেরোনো অনেক শিক্ষার্থী নিজের শ্রেণির নাম বলতে পারলেও লিখতে পারে না। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ শতাংশের বেশি। যারা নিজের নাম লিখতে পারে না, তারা পরবর্তীকালে গিয়ে কী করবে ?যার প্রভাব পড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় গিয়ে।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক পরিবর্তন এনেছে।পরিবর্তনের বেশিরভাগই ইতিবাচক। প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার হার বাড়ছে। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে। কিন্তু এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও কিছু প্রতিবন্ধকতা প্রাথমিক শিক্ষায় রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং বাড়াতে হবে, যাতে শিক্ষকরা ক্লাসে মনোযোগী হন। প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক সংকট জিইয়ে রেখে প্রাথমিক শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব না। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যাতে প্রকৃত মেধাবীরাই উত্তীর্ণ হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীদের খেলাচ্ছলে আনন্দের সঙ্গে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি সচেতন থাকতে হবে। তাহলেই প্রাথমিক শিক্ষা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থায় রূপ নেবে।

Developed by: