সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের ছবি নিয়ে হিসাব-নিকাশ এখনো মিলছে না  » «   ১১ প্রশ্নে ৮২ ভুল!  » «   মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল : আরেকটা হাতছানি  » «   ২ সেপ্টেম্বর শাবিতে ভর্তির আবেদন শুরু  » «   এ্যাকশনে পুননির্বাচিত আরিফ  » «   ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি  » «   সমকাল সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা  » «   অনবদ্য তামিম ইকবাল  » «   ওরা এখনো নজরকাড়া  » «   শাবিপ্রবি’র হল বন্ধ  » «   সিলেটে ২১ আগষ্ট থেকে ৫ দিন বন্ধ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ  » «   ইকুয়েডরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত  » «   ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন হ্যাক করা অত্যন্ত সহজ!  » «   সারা’র রুপে মুগ্ধ সবাই  » «   আবারও সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু কাপ  » «  

ইনুর বক্তব্যে তোলপাড়



jpyস্টাফরিপোর্টার:তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে তোলপাড় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর আগে সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি বিষয়ে মন্তব্যের পর দুঃখ প্রকাশ করে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেছিলেন। এবার যে দলের নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়েছে সেই দলের অবস্থানকেই চরম তাচ্ছিল্য করে আরেক দফা সমালোচনার মুখে পড়েছেন হাসানুল হক ইনু। বাংলাদেশের প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ‘বিতর্কিত’ এ রাজনৈতিক দলটিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। জাসদকে সরকারের শরিক করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
গত ৮ নভেম্বর কুষ্টিয়ার মিরপুরে দলীয় জনসভার বক্তব্যে শরিকদের ছাড়া আওয়ামী লীগকে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরতে হবে, হাজার বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনু। তিনি বলেন, জাসদের শক্তি আছে, জাসদের লাঠি আছে। আমরা যদি মনে করি জাসদের লাঠি যে রাস্তায় যাবে সেই রাস্তায় আর কেউ থাকবে না।
এর জবাবে ৯ নভেমবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন করলে জাসদের কী অবস্থা হবে সেটা ইনু জানেন। একইসঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের এই নেতার ক্ষোভের কারণ জানতে ফোরামের বৈঠক ডাকারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত দ্বিতীয় দফার সরকারে মহাজোট ও তৃতীয় দফায় ১৪ দল শরিক হিসেবে আছে। দুই জায়গাতেই অন্যদের সঙ্গে জোটসঙ্গী হিসেবে আছে জাসদও। দলটির প্রধান হাসানুল হক ইনুই প্রথম ব্যক্তি যিনি কোনো জোটের নেতা হয়ে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে সরকারের নেতৃত্বদানকারী দলের বাইরের কোনো নেতা তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পাননি। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করে তিনটি আসন পায় ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আগে মন্ত্রিত্ব পান তিনি। এরপর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাসদ পাঁচটি আসন পায় । এরই মধ্যে দলটির ভাঙনে দুজন সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আলাদা হয়ে গেছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে চাই না। যিনি বক্তব্য দিয়েছেন, অর্থাৎ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। সম্প্রতি আরকদফা ভেঙে আলাদা হয়ে যাওয়া জাসদের আরেক নেতা শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, উনার বক্তব্য নানামুখী ইঙ্গিতে ভরা। তার অবস্থান বুঝা খুবই কঠিন। আম্বিয়া বলেন, এখনো জোটের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি বা বৈঠক ডাকা হয়নি। বড় বড় কথা বলা ইনু সাহেবের অভ্যাস। বিষয়টি যদি ১৪ দলের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় তাহলে মিটিং করে আমরা বক্তব্য দেব।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে বলেন, উনি স্থানীয়ভাবে বক্তব্য রেখেছেন, স্থানীয় নেতারাই প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন মনে করেন, সরকারের মন্ত্রী হিসেবে হাসানুল হক ইনুর এমন মন্তব্য ১৪ দলের অগ্রযাত্রায় সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্টি করবে। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ অবশ্য এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, মাঠের বক্তব্যে অনেকজন অনেক কথা বলেন। এটাতে এত বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।
৯ নভেম্বর ঢাকা বিশ^বিদ্যলয়ে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, উনার যা ক্ষোভ আছে, এটা আমরা দলীয় ফোরামে, সরকারি ফেরামে আলাপ করে নেব। চিন্তার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, ইনু সাহেব হয়তো অভিমান থেকে এমন মন্তব্য করেছেন।
এদিকে ৯নভেম্বর তথ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু বুঝেশুনেই মহাজোট গড়ে তুলেছেন। শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শী। তিনি ১৪ দলভুক্ত সব দলের অতীত ইতিহাস, লক্ষ্য, সবকিছু বুঝেশুনেই মহাজোট গড়ে তুলেছেন।
তিনি বলেন, মহাজোটের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের সংগ্রাম করছি। এই মহাজোটের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার দোসর জামায়াতে ইসলামী ও জঙ্গিদের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করছি। আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখতে হবে। মহাজোট ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের মতো ক্ষতিগ্রস্ত ও রক্তাক্ত হবে। আমরা সেটি হতে দিতে পারি না। এ জন্যই আমরা মনে করি, এই ঐক্য প্রয়োজন হলে হাজার বছর টিকিয়ে রাখতে হবে। চোখের মণির মতো আগলে রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৮০ অথবা ৯৯ শতাংশ ক্ষমতার মালিক হওয়ার পরও ২০ শতাংশ বা এক শতাংশ ক্ষমতার মালিকদের সম্মান, দাম ও গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেন উল্লেখ করে ইনু বলেন, অথচ এই মহাজোটের শরিকভুক্ত অনেক নেতা ২০ শতাংশ ও ১ শতাংশ ক্ষমতার মালিকদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কটাক্ষ করেন, যা ঠিক না। এতে ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন কাজ করাও ঠিক হবে না যে কাজ এই ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

Developed by: