সর্বশেষ সংবাদ
সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে সময় পেল পিবিআই  » «   এসডিসি কার্য্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত  » «   মৌলভীবাজারের ৫ জনের যুদ্ধাপরাধের রায় যে কোনো দিন  » «   এরা এখনো বিশ্বাস করে না পৃথিবী গোল!  » «   সাগরে লঘুচাপ, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস  » «   লাউয়াছড়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে বিরল প্রজাতির লেজের ‘মোল’  » «   লন্ড‌নে এসিড হামলায় দু‌টি চোখ হারা‌লেন বাংলা‌দেশী তরুন  » «   জাফলংয়ে মাটি চাপায় কিশোরী নিহত, আহত ৪  » «   ক্লিনিক আর ডায়গনাস্টিক সেন্টারে সড়কজুড়ে যানজট  » «   কমরেড আ ফ ম মাহবুবুল হক আর নেই  » «   গোলাপগঞ্জে তেলবাহী লেগুনায় আগুন  » «   পিলখানা হত্যাকাণ্ড : হাইকোর্টের রায় ২৬ নভেম্বর  » «   লোদীর বাসায় মেয়র আরিফ: বিরোধের অবসান!  » «   নগরীতেে কোনদিন কোথায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ  » «   সৌদির বিরুদ্ধে লেবাননের যুদ্ধ ঘোষণা!  » «  

ভুতুড়ে বিল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন গ্রাহকরা



10octobarস্টাফরিপোর্টার: সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও মিটার রিডারদের দুর্নীতির কারণে বিপাকে পড়েছিলেন প্রায় দুই লাখ গ্রাহক। অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেখে এসব গ্রাহকদের কপালে পড়েছিল চিন্তার ভাজ। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছিলেন গ্রাহকরা। তবে অবশেষে হয়রানি থেকে মুক্তি মিলছে তাদের। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ‘মাল্টিপল কারেকশন’র মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ দিচ্ছে। এতে এক সাথে অত্যধিক বিলের বোঝা বইতে হচ্ছে না গ্রাহকদের।
সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ সূত্র জানায়, সিলেট নগরীতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা চারটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে ৫০ হাজার, দ্বিতীয় ভাগে ৭২ হাজার, তৃতীয় ও চতুর্থ ভাগে সমান ৩২ হাজার করে গ্রাহক রয়েছেন। গত আগস্ট মাসে স্বাভাবিক ছিল এসব গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল। তবে সেপ্টেম্বরে তাদেরকে দেয়া বিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ অবস্থা হয় গ্রাহকদের। যে গ্রাহকের বিল পূর্ববর্তী মাসে দুই হাজার, সেপ্টেম্বরে তার বিল আসে প্রায় ২০ হাজার টাকা!
গ্রাহকদের এই বিপাকে পড়া অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররাও বিষয়টি নিয়ে উচ্চকিত হন। গত শনিবার নগরীর ২০নং ওয়ার্ডে গ্রাহক সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ।
এসবের প্রেক্ষিতে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ গ্রাহকদের চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিল মাল্টিপল কারেকশন করেছে। এর মাধ্যমে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। এতে ইউনিটপ্রতি বাড়তি মূল্যও দিতে হচ্ছে না গ্রাহকদের।
বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চল, সিলেটের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) রুহুল আমিন বলেন, গ্রাহকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা মাল্টিপল কারেকশন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তাদেরকে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ দিচ্ছি। মিটার রিডাররা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় একসাথে বেশি ইউনিট জমা হয়ে পড়েছিল। ৪শ’ ইউনিটের বেশি হয়ে যাওয়ায় বিল ইউনিটপ্রতি নয় টাকার বেশি এসেছিল। কিন্তু এটা গ্রাহকদের দোষ নয়, তারা বলেননি যে ইউনিট জমিয়ে রাখা হোক। এজন্য মাল্টিপল কারেকশনে তাদের ইউনিট প্রতি বিল স্বাভাবিক তথা ৫.৬৩ পয়সায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকরা কিস্তি সুবিধাও পাচ্ছেন।
জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ বিদ্যুৎ বিল তৈরীতে বৈদ্যুতিক মিটার দেখে হাতে রিডিং লিখার পরিবর্তে ছবি তুলে বিল তৈরী শুরু করে। গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ পদ্ধতিকে ‘স্ন্যাপ সিস্টেম’ বলা হচ্ছে। পূর্বের মিটার রিডারদের গাফিলতির কারণে গ্রাহকদের ব্যবহৃত ইউনিট জমে গিয়েছিল। এজন্য বর্তমানে ওই সিস্টেমে বিল তৈরী করায় পূর্বের সব জমে থাকা ইউনিট একসাথে চলে আসছে। এতে অস্বাভাবিক বিল পেয়েছেন গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনার আলোকে ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে ছবি তোলার মাধ্যমে মিটারের রিডিং রেকর্ড করা হচ্ছে। এই স্ন্যাপ সিস্টেমের মূল সার্ভার হচ্ছে টাঙ্গাইলে। সিলেট থেকে ডাটা সরাসরি সেখানে চলে যায়, প্রসেস হওয়ার পর সিলেটে আসে। এই পদ্ধতির মূল সুবিধা হচ্ছে, মিটার রিডারদের অবশ্যই প্রত্যেক গ্রাহকের আঙ্গিনায় গিয়ে মিটার দেখেই রিডিংয়ের ছবি তুলতে হচ্ছে। এতে সঠিক বিল তৈরী হচ্ছে।’
তিনি জানান, মাস কয়েক আগে মুন্সী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েটস নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত মিটার রিডারদের দুর্নীতির কারণেই গ্রাহকদের ব্যবহৃত ইউনিট জমা হয়েছিল। এসব রিডাররা বাসা-বাড়িতে না গিয়েই গ্রাহকদের বিল তৈরী করত।

Developed by: