সর্বশেষ সংবাদ
সুরমা পয়েন্টে যুবলীগ নামধারী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক আহত  » «   সিলেটে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ দিলেন পুলিশের আইজিপি  » «   চুনারুঘাটে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মিয়ানমারে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের শঙ্কা  » «   সিলেট বিভাগে সেরা র‍্যাংকিংয়ে এমসি কলেজ  » «   ফেনীতে মুসলমান শিক্ষককে খুন করলেন বৌদ্ধ সহকর্মী শিক্ষক !  » «   বায়োলজিক্যাল ঘড়ি কী, যে কারণে নোবেল পুরস্কার  » «   নগরীতে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ২ শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক  » «   চিকিৎসায় নোবেল পেলেন মার্কিন তিন বিজ্ঞানী  » «   সিলেটে বিদ্যুতের ডিজিটালাইজেশনের ফাঁদে দুই লাখ গ্রাহক!  » «   ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি  » «   মৃত্যুর আগে পানি চেয়েও পায়নি কিশোর  » «   সিলেটে ৫৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, থাকছে তিনস্তরের নিরাপত্তা  » «   জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনের নাম প্রকাশ  » «   মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সু চি-সেনাপ্রধান  » «  

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মানবাধিকার কমিশনের ৭ সুপারিশ



10octobarপ্রান্তডেস্ক: মিয়ানমারে চলমান রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ, তাদের জন্য বাফার জোন তৈরিসহ সাত দফা সুপারিশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ছাড়া কমিশনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে ‘অনুপত্র’ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধ করা, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য বাফার জোন তৈরি করা, জাতিসংঘের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা, বাংলাদেশে বসবাস করা ‘১০ লাখ’ রোহিঙ্গার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান, কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি না করে কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন করে মিয়ানমার রাষ্ট্র কর্তৃক রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করা, প্রয়োজনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে অবরোধ আরোপ করা এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে যে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করেছে, এসব কারণে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করা।

সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনা ঘটছে। সেখানে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় আসিয়ান, কমনওয়েলথ সচিবালয়ের মানবাধিকার–বিষয়ক ইউনিট, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব, ইউনিসেফ,ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনসহ (আইওএম) আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে ‘অনুপত্র’ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের পদ্ধতিগত সংস্কার করতে হবে। কারণ, সারা বিশ্বের সব রাষ্ট্র এক দিকে অবস্থান নেবে আর দু-একটি রাষ্ট্র অপরদিকে থাকবে, এটা হতে পারে না। এমন ধরনের ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
মিয়ানমারে গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেশটির শাসকদের বিচার দাবি করে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে দ্য আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) হামলা করেছে, নাকি মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এমনটি ঘটানো হয়েছে, সেটা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। আর এই আরসা কারা, সেটাও দেখতে হবে। এভাবে একপেশে অভিযোগ দিয়ে গণহত্যা চালানোর দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিসি ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচার হতে পারে।
মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন কথা বলবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, মিয়ানমার সরকার মারমুখী অবস্থানে আছে। তারা কারও কথা শুনছে না। তবু কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে একটি ‘অনুপত্র’ দেওয়া হয়েছে। সে দেশের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় কি না, সে চেষ্টাও তাঁরা করছেন।

Developed by: