সর্বশেষ সংবাদ
রাজ-শুভশ্রী এক বাঁধনে  » «   বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করেছে : প্রধানমন্ত্রী  » «   আগাম বন্যার আশঙ্কা  » «   ঈদে আসছে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’  » «   বজ্রপাতে একদিনে সারাদেশে ৩০ জনের মৃত্যু  » «   জাতীয় অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলামের ইন্তেকাল  » «   জাতিসংঘ মিশন : সিলেটের ২০০ স্বপ্নবাজ তরুণের নেতৃত্বে হাওরসন্তান সোহাগ  » «   বিয়ানীবাজারে বুদ্ধি প্রতিবন্ধি যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার  » «   বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন সোনম কাপুর আর আনন্দ আহুজা  » «   এসএসসি ফল পুনঃনিরীক্ষন শুরু : একাদশে ভর্তি ১৩ মে থেকে  » «   ষাঁড়ের গুতোয় কৃষকের মৃত্যু  » «   পা-ই তার সাফল্যের চাবিকাটি  » «   গাছ ভেঙে পড়ায় সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ  » «   এসএসসিতে সিলেটে পাস ৭০.৪২% : জিপিএ-৫ ৩১৯১ জন  » «   নিয়োগ চলছে কামা পরিবহন (প্রা. লি.)-এ।  » «  

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও লাভ-ক্ষতি



liveফরিদুর রহমান:প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে, তারপর হবিগঞ্জ ও ছাতকে এবং এরপর গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে। বুঝতে কষ্ট হয় না, এ শুধু মন্দিরে ঢুকে মূর্তিভাঙা নয়, অসাম্প্রদায়িক উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গও বটে।
নাসিরনগরে যে-যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করা একটি আপত্তিকর ছবিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন ও পরে হামলার ঘটনা ঘটেছে তাকে একদিন আগেই গ্রেফতারও করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতে রামুতে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনা ও তার ধারাবাহিকতায় যে তাণ্ডব দেশবাসী দেখেছে, তাতে ফেসবুকে নতুন করে উন্মাদনা সৃষ্টির মতো অপতত্পরতা চালানোর দুঃসাহস জেলে পাড়ার অর্ধশিক্ষিত একজন যুবকের আছে কি-না সে বিতর্কে না গিয়ে সামগ্রিকভাবে পুলিশ প্রশাসনের তত্পরতার প্রশংসাই করা যায়।
আসলে সর্বকালেই প্রশাসনের সরিষার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভূত তাদের স্বার্থসিদ্ধি, অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার লভ্যাংশের হিসাবনিকাশ করেই নড়াচড়া করে। যে দেশে মানুষ এখনো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক রাজাকারকে চাঁদে দেখা গেছে—এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে, সে দেশের পুলিশ কোন ভরসায় একদল ধর্মান্ধ মানুষকে প্রতিবাদ সমাবেশের নামে জমায়েতের অনুমতি দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারে সে প্রশ্নও তোলা যায়। তারা কি চেয়েছিল দাঙ্গাবাজ দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে তাদের কাজ শেষ করে দেশব্যাপী আরেকটি তাণ্ডবের উদাহরণ সৃষ্টি করুক, যাতে সংখ্যালঘুরা আবার নতুন করে দেশ ছাড়ার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা শুরু করতে পারে? প্রশাসনের এই দিবানিদ্রা তাদের জন্য কতটা লাভজনক জানি না, ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য বিব্রতকর এবং দেশের জন্য চূড়ান্ত লজ্জার বিষয়।
কয়েক দিন ধরে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে ও পত্র-পত্রিকার সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নজনের মন্তব্য ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে মনে হয়েছে, এই হিংসাত্মক আক্রমণ আবস্মিক ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। এর পেছনে আছে তুলনামূলকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মানুষকে বিতাড়িত করে ভূসম্পত্তি দখলের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। কয়েক ঘর অসহায় মানুষকে ভিটামাটি ছাড়া ও শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়া করা গেলে স্থানীয় শক্তিমানরা প্রশাসনের সহায়তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রমেই তাদের আগ্রাসী থাবা বিস্তার করে বাড়ি-ঘর, দিঘি-পুকুর ও মন্দিরসহ দেবোত্তর জমিজমা সহজেই আত্মসাত্ করতে পারে। এই কূটবুদ্ধি প্রয়োগ করে বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হুমকি-ধমকি দিয়ে, কৃত্রিম ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ত্রাস ছড়িয়ে অগণিত মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পর্যন্ত যত সংখ্যক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ থেকে প্রতিবেশী দেশে পাড়ি জমিয়েছে তার প্রায় দ্বিগুণ।
গত কয়েক দশকের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনায় যারা লাভবান হয়েছে তাদের তালিকায় দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর স্থানীয় নেতার নাম উচ্চারিত হয়েছে। পত্রিকার একটি শিরোনামে যখন লেখা হয়, ‘মন্দির ভাঙচুর: ইন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতাও’, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, রাজনৈতিক বিশ্বাস যাই হোক—দখল ও আত্মসাতের ব্যাপারে সবাই একজোট। কাজেই এসব সন্ত্রাসী হামলা শুধু জামায়াত-শিবির ও ধর্মান্ধ ইসলামি গোষ্ঠীর কাজ বলে দায় এড়ানোর দিন শেষ হয়ে গেছে।
লেখক : সাবেক উপমহাপরিচালক,

Developed by: