সর্বশেষ সংবাদ
চুনারুঘাটে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১  » «   মিয়ানমারে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের শঙ্কা  » «   সিলেট বিভাগে সেরা র‍্যাংকিংয়ে এমসি কলেজ  » «   ফেনীতে মুসলমান শিক্ষককে খুন করলেন বৌদ্ধ সহকর্মী শিক্ষক !  » «   বায়োলজিক্যাল ঘড়ি কী, যে কারণে নোবেল পুরস্কার  » «   নগরীতে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ২ শীর্ষ ব্যবসায়ী আটক  » «   চিকিৎসায় নোবেল পেলেন মার্কিন তিন বিজ্ঞানী  » «   সিলেটে বিদ্যুতের ডিজিটালাইজেশনের ফাঁদে দুই লাখ গ্রাহক!  » «   ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি  » «   মৃত্যুর আগে পানি চেয়েও পায়নি কিশোর  » «   সিলেটে ৫৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, থাকছে তিনস্তরের নিরাপত্তা  » «   জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১ জনের নাম প্রকাশ  » «   মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত সু চি-সেনাপ্রধান  » «   শাবির ভর্তি পরীক্ষা ১৮ নভেম্বর  » «   তিন ছেলে পুলিশ কর্মকর্তা, তবু ভিক্ষা করেন মা!  » «  

আজ কবি টি এস ইলিয়ট এর ১২৯তম জন্মদিন



8প্রান্ত ডেস্ক: আজ কবি থমাস স্টার্ন ইলিয়ট ওরফে টি এস ইলিয়ট এর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী। এই মহান কবির প্রতি আমরা সিলেট প্রন্তের পক্ষ থেকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। নিম্নে তরুন প্রজন্মের জন্য আমরা তুলে ধরছি এই মহান কবির সংকিপ্ত জীবনী।…..

থমাস স্টার্ন ইলিয়ট ওরফে টি এস ইলিয়ট বিংশ শতাব্দীর একজন যুগান্তকারী কবি, যিনি তাঁর রচিত ইংরেজি সাহিত্যের সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা “The Waste Land” এর জন্য অমর হয়ে আছেন। টি এস ইলিয়ট ১৮৮৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি প্রদেশের সেন্ট লুইস শহরের নিউ ইংল্যান্ড পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরু হয় সেন্ট লুইসের স্মিথ একাডেমী ও ম্যাসেচুসেটস এর মিল্টন একাডেমী তে। পরবর্তীতে ১৯০৬ সালে তিনি হার্ভার্ডে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন এবং তিন বছর পরে কলা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্মান অর্জন করেন। হার্ভাডে থাকা কালীন তিনি দর্শন, কবিতা ও সাহিত্য সমালোচনা এই তিনটি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হন যা পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্য সাধনায় প্রভাব ফেলেছে। পরে তিনি ফ্রান্সের Sorbonne University তে দর্শন শাস্ত্রের উপরে অধ্যয়ন করতে যান। ১ম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ভিভিয়ান হেগ উডের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং লন্ডনে একটি স্কুলে শিক্ষকতা গ্রহণ করেন কিন্তু খুব শীঘ্রই তিনি ব্যাংকের চাকুরী পান এবং সেই পদে তিনি ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন।

ওই সময়ই তিনি আমেরিকান কবি এজরা পাউন্ডের সাথে বন্ধুত্ব করেন যিনি ইলিয়টের কবি প্রতিভার প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাঁর কাজ প্রকাশে সহায়তা করেন। এই সময়কার প্রথম কবিতা এবং ইলিয়টের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি The Love Song of J. Alfred Prufrock যা ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয় “Poetry” গ্রন্থে। তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থ ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়, যার নাম ছিল “Prufrock and Other Observations” যা তাঁকে তাঁর যুগের একজন অগ্রণী কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। কাব্য চর্চা এবং তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করার সময়, ইলিয়ট সাহিত্য সমালোচনা ও পর্যালোচনা লেখায়ও মনোযোগ দেন। বর্তমানে তাঁর রচিত সমালোচনা ও তাঁর কবিতা উভয়ই ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আছে।

১৯১৯ সালে, ইলিয়ট “Gerontion” ধরনের কবিতা লেখেন যা ছিল একটি ছন্দ হীন অন্তর্ভাষণ এবং এ ধরনের কিছু ইংরেজি ভাষায় লেখা আগের যেকোন ধরনের স্তবক বিন্যাস থেকে ভিন্ন ছিল। ১৯২২ সালে এলিয়ট তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ “The Waste Land” প্রকাশ করেন যা ছিল একটি প্রকাণ্ড এবং জটিল যুদ্ধ পরবর্তি কঠিন বাস্তবটার আলোকে রচিত কবিতা। যে সময় তিনি এই কবিতা লিখছিলেন সে সময় তিনি দাম্পত্য কলহের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি এবং তাঁর স্ত্রী উভয়ই স্নায়বিক চাপের মধ্যে ছিলেন।

প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই “The Waste Land” পুরো পৃথিবী জুড়ে অভূতপূর্ব আলোড়ন তৈরি করে এবং অচিরেই এটিকে বিংশ শতাব্দীর তো বটেই বরং ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাব সৃষ্টিকারী কবিতার তকমা দেয়া হয়। ওই বছরই তিনি Criterion নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা চালু করেন এবং ১৯২২ থেকে ১৯৩৯ পর্যন্ত এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বছর দুয়েক পরে তিনি ব্যাংকের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন এবং Faber & Faber নামের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হন। এখানে কর্ম জীবনের শেষ পর্যন্ত ছিলেন এবং অনেক নতুন উদীয়মান কবিদের তাদের কবি প্রতিভার বিকাশের সুযোগ দেন। ১৯২৭ সালে তিনি ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ হলো, “Ash Wednesday” (১৯৩০) and “Four Quartets” (১৯৪৩)। এ সময়ে তাঁর রচিত সমালোচনা মূলক প্রবন্ধগুলো হলো, “The Use of Poetry and the Use of Criticism” (১৯৩৩), “After Strange Gods” (১৯৩৪) এবং “Notes Towards the Definition of Culture” (১৯৪০)। কবিতা, সমালোচনা এবং নাটক এর ক্ষেত্রে তাঁর সুবিশাল প্রভাবের জন্য টি এস ইলিয়ট ১৯৪৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬৫ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরের কেনসিংটন এ মৃত্যু বরণ করেন।

Developed by: